একটা মেয়ে কে খুব সহজে এই সমাজ খারাপ বলে! আচ্ছা একটা মেয়ে জিন্স শার্ট পরলেই খারাপ হয়? সিগারেট খেলেই খারাপ হয়? এই সমাজ খুব সহজে খারাপ মেয়ে নির্ধারণ করে ফেলে। সেই চিন্তা থেকেই ৮ই মার্চ নারীদিবসে একাত্তর টিভিতে মুক্তি পাচ্ছে ডকুফিকশন To Define a Bad Girl। দীর্ঘ ৯ বছর টিভি সাংবাদিকতার পর চলচিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন মুনমুন শারমিন শামস। চলচিত্র নিয়ে তাঁর স্বপ্ন আর To Define a Bad Girl র পর্দার পেছনের গল্প উঠে এলো মুনমুন আপুর সঙ্গে ফেমিনিজমবাংলার আড্ডায়। 

ফিল্মের প্রতি আপনার আগ্রহ এলো কি করে ?

আমি টেলিভিশনে কাজ করেছি ৯ বছর। এই ৯ বছর নিউজ বানিয়েছি। কিন্তু সবসময় মনে হয়েছে, আমার চিন্তার জগতে আরো অনেক কিছু আছে যা আমি নিউজের ফরমেটে আবদ্ধ থেকে প্রকাশ করতে পারি না। সেটা সম্ভব যদি আমি ফিল্ম বানাই।

5

 

প্রথম ডকুর কাহিনী হিসেবে টু ডিফাইন এ ব্যাড গার্ল কেন ?

আমি নারী ইস্যুতে লিখি, আমার ইচ্ছে ফিল্ম বানাবো এই বিষয়গুলো নিয়েই। এটা আমার একটা ব্যাক্তিগত মুভমেন্টের জায়গা। টু ডিফাইন এ ব্যাড গার্ল এর একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। কোন একদিন আমাকে একজন একটা মেয়ের সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল, আমি তাকে কীভাবে চিনি। তারপর বলেছিল, মেয়েটা খারাপ। আমার প্রশ্ন ছিল তার কাছে, খারাপ মানে কী? এই প্রশ্নের কোন গ্রহণযোগ্য উত্তর সে দিতে পারে নাই। মেয়ে খারাপ, এই কথা আমি ছোটবেলা থেকে নানাজনের মুখে শুনে এসেছি নানা মেয়েকে নিয়ে। এটা একটা বিস্ময়ের ব্যাপার, এই সমাজ নির্ধারণ করে মেয়ে খারাপ না ভালো কতগুলো অদ্ভুত নির্ধারক দিয়ে। আমি সমাজকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই তারা চিন্তার জগতে কতটা হীন আর নীচ।

t1

চরিত্র নির্ধারণ কীভাবে করেছেন ? অভিনেত্রী নির্বাচন করে চরিত্র সাজিয়েছেন, না চরিত্র ঠিক করে অভিনেত্রী নির্বাচন করেছেন ?

এটা ডকুমেন্টরি। এর চরিত্রগুলো বাস্তব। এরা সত্য।এদের বাস্তব থেকে তুলে এনে ডকুতে তুলে ধরেছি।

আপনার ডকুফিকশানের টার্গেট অডিয়েন্স কারা ?

আমার টার্গেট অডিয়েন্স সবাই। যারা মুক্তমনের অথবা যারা পুরুষতান্ত্রিক চিন্তায় বিশ্বাসী, যারা প্রগতিশীল, যারা গোড়া – নারী পুরুষ সবার জন্য।

কি মেসেজ দিবে এই ডকু ফিকশন সমাজকে ?

এই ডকু ফিকশান সমাজকে আরেকবার ভেবে দেখতে বলবে, তারা যে মানসিকতা ধারণ করে নারীর প্রতি তা কতটা সুস্থ ও সুন্দর, কতটা যৌক্তিক, কতটা রুচিশীল। নারীকে সমাজের মাপকাঠিতে মাপার দিন ফুরিয়ে এসেছে – এটা সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই।

37     t2

একজন নারী ফিল্ম মেকার হিসেবে অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরোতে হয়, সে জায়গায় নিজেকে কতটা সফল মনে করছেন ?

নারী ফিল্ম মেকার বলে কোন ঘাত প্রতিঘাত পেরোই নাই এখন পর্যন্ত, কারণ আমি নিজেকে নারী ভেবে পথ চলা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। একজন ফিল্ম মেকার হিসেবে কেবল পথ চলার শুরু। সেটাই ঠিকমত করতে চাই। একজন ফিল্ম মেকার হতে চাই। তবে হ্যা, একজন পুরুষ হলে নিশ্চয়ই আমার কাজ আরো নির্বিঘ্নে করতে পারতাম, এই সমাজ, এই পরিবার কাঠামোর মধ্যে আমার কাজ পুরুষের তুলনায় অবশ্যই একটু হলেও কষ্টসাপেক্ষ। আমাকে আমার সন্তান আর সংসারের কথা ভেবে সব গুছিয়ে নিজের কাজ করতে হয়। পুরুষ হলে হয়তো এতো কিছু ধার না ধেরে নিজের কাজটা নিয়েই পড়ে থাকতে পারতাম।

10.jpg      t3

 

সামনে আরও কি কি ড্রিমপ্রজেক্ট আছে ?

আমি সংবাদ জগতের মানুষ বলেই ডকুমেন্টরির প্রতি আমার ভালোবাসা বেশি। পাঠশালার ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আমি। চলচ্চিত্রের যেকোন শাখাতেই হয়তো কাজ করবো। শর্ট ফিল্ম বা পূর্ণদৈর্ঘ্য। ইচ্ছে আছে টেলিভিশন নাটক নির্মানেরও। দেখা যাক।

 

 

Advertisements