টাটকা খাবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, আর সেই খাবার সরবাহের মধ্য দিয়ে যুক্ত করা গ্রামবাংলার হাজার হাজার নারীকে –আমার দেশ আমার গ্রাম এর  motto ই ছিল তা। যে গ্রামবাংলার নারীরা ঘুপচিতে পড়ে থাকত, সংসারে যাদের কথা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হত, তারাই আজ হয়েছে সংসারের মেরুদণ্ড। নিজেদের বানান পণ্য শহুরে মানুষের কাছে বিক্রি করে নিজেদের ভাগ্য ফেরাচ্ছে। শুধু নারীরাই নয়, ভাগ্য ফিরেছে হাজার হাজার কৃষক, কুমার, জেলেদের। যাদের উৎপন্ন পণ্য আজ সহজে পৌঁছে যাচ্ছে আমাদের হাতে “আমার দেশ আমার গ্রাম”এর  মাধ্যমে। আমার দেশ আমার গ্রাম বাংলাদেশের প্রথম ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। আর এই স্বপ্নের পিছনে রয়েছেন দেশের সফল নারীউদ্যোক্তা সাদেকা হাসান সেঁজুতি। দেশের আরও নারীদেরকে “আমার দেশ আমার গ্রাম” এ যুক্ত করা, নিজের উদ্যোক্তা জীবনের গল্প সব নিয়েই ফেমিনিজমবাংলার আড্ডায় সেঁজুতি  ম্যামের সঙ্গে কিছুক্ষণ।

 

ম্যাম, উদ্যোক্তা হবার ইচ্ছেটা কি আগের থেকেই ছিল নাকি হুট করে সব ?

উদ্যোক্তা হবার ইচ্ছা আমার স্বপ্নই ছিল, বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ কিছু করা। আর্কিটেকচারে পড়াশুনা করার সুবাদে একটা ক্রিয়েটিভ চিন্তাচেতনা আগের থেকেই ছিল। এরপর ইউকে তে পাড়ি জমালাম। ওখানে আমার স্বামী ই-কমার্সের কাজ করত, তাতে আমি খুব ইন্সপায়ারড ছিলাম। দেখতাম একজন আনএডুকেটেড মানুষও কত ইজিলি সেবা দিতে পারছে ই-কমার্সের মাধ্যমে, রেস্টুরেন্টে কাজ করছে, অনলাইনে খাবার দিচ্ছে । আমার দেশের প্রেক্ষাপট চিন্তা কর, এখনও বেশিরভাগ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানে না। কিন্তু ই-কমার্সের মাধ্যমে তারা সেবা দিচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছে। এই আইডিয়াটা আমার মাথায় ঢুকল। আমি এবং আমার স্বামী এমনিতেও কোনদিন বিদেশ থাকতে চাই নি, দেশের জন্যই কিছু করতে চেয়েছি। তাই দেশে কাজ করব শুনে বর রাজি হয়ে গেল। আরামের জীবন ছেড়ে, চলে এলাম বাংলাদেশে । শুরু করি “আমার দেশ আমার গ্রাম”।

স্কুলিং, গ্রাজুয়েশন

ঢাকা স্কলাস্টিকা তে পড়াশুনা করি। এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি থেকে আর্কিটেকচার।

logo

 

আমার দেশ আমার গ্রামে, নারী ক্ষমতায়নে বিরাট ভুমিকা রেখেছে, পরিসংখ্যান কি বলে ?

আমাদের এখানে যারা উদ্যোক্তারা রয়েছেন তাদের সংখ্যা ধর ৫৬০০। এদের প্রায় ৯০ ভাগই মেয়ে। ১১টি কল সেন্টার বা ই সেন্টার রয়েছে পুরো বাংলাদেশে। একটি ছেলে, একটি মেয়ে প্রত্যেকটা ই-সেন্টারে।

আমি ঢাকার কল সেন্টারে ফোন দিয়েছিলাম, এক আপু ধরেছিল

ঢাকার কলসেন্টারে তো সবাই মেয়ে।

নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়টা নিয়ে কি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে ?

অবশ্যই, দেখ বাংলাদেশে ৫০% হচ্ছে নারী। এরা প্রত্যেকে যদি কন্ট্রিবিউট করে Economic Development এ । একটা বিশাল লাভ হয়। সরকারের কোষাগারে হিউজ রেভিনিউ জমা হয়। এটা একটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশাল কাজ করে।

amar desh amar gram

পরিবারের সহযোগিতা পাচ্ছেন ? একটা বেবি আছে, তাকে সামলান, আবার অফিসের কাজ?

এই তো এখন বাসায়। ওর সঙ্গেই আছি। পরিবারের সহযোগিতার বিকল্প নেই। আমার মা যদি সহযোগিতা না করত, হতই না সম্ভব। ফ্যামিলি সাপোর্ট মাস্ট, করতেই হবে। এটা পেলেই কেবল মাত্র একটা মেয়ে দাঁড়াতে পারে। কেউ একজন, বাবা, মা , চাচা , চাচি কারও ফুল সাপোর্ট পেতেই হবে।

বাঁধা এসেছে কখনও, উদ্যোক্তা হবার পথে।

হনেস্টলি স্পিকিং আমি বাঁধা পাই নি। উদ্যোক্তা হলে অনেক নারীদের মনোভাব “ দুনিয়ে ছেড়ে কাজ করবে”। আমার সেটা কখনই ছিল না। আমি মাইন্ডসেট করেছিলাম “ আমি কাজ করব, সব ছেড়ে না, সব নিয়েই কাজটা করব, পরিবারের সবাইকে কনভিন্স করে, মন জুগিয়ে কাজ করব, তা না হলে উল্টো প্রতিকূল হবে”।

sadeka mam 1

 

নারী মুক্তি, নারী উদ্যোক্তা

আসলে একটা নারীকে সবসময় মাথায় রাখতে হবে “ সে পুরুষের সমান সমান। উর্ধেও যাব না, নিচেও যাব না”। এতে প্রতিকূলতা ফেস হবে না। আমি আমার কাজের ক্ষেত্রে কখনও ইভটিজিংয়ের স্বীকার হই নি। আমি নিজেকে সব সময় পুরুষের equivalent ভেবে এসেছি। এবং এটাই আমি বুঝি, নারীরা পুরুষের চাইতে স্ট্রং হবে না, উইক হবে না, তারা হবে সেম সেম – ইকুয়েল মেইনটেইন।

Advertisements