কোড ইট গার্ল ! প্রোগ্রামিং করতে মেয়েদের ভয়, আইটি তে পড়ার প্রতি অনাগ্রহ কাটিয়ে উঠানোর লক্ষ্যেই এক বছর আগে যাত্রা শুরু হল কোড ইট গার্লের। মেয়েদেরকে কোডিংর প্রতি আরও উৎসাহী করতেই, নিরলস ভাবে কোড ইট গার্ল শেয়ার করে যাচ্ছে বাংলায় লেখা প্রোগ্রামিং এর কন্টেন্ট ,আয়োজন করছে প্রোগ্রামের উপর ওয়ার্কশপ। একজন মিষ্টি আপু, আফরীন হোসেনের ব্রেইনস্ট্রমিংর বহিঃপ্রকাশ কোড ইট গার্ল। ফেমিনিজমবাংলার আড্ডায় আফরীন  আপুর সঙ্গে উঠে এলো কোড ইট গার্লের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যাত্রা।

কোড ইট গার্লের যাত্রা শুরু কবে আপি  ?
কোড ইট গার্লের যাত্রা ২০১৪ এর ডিসেম্বর এ শুরু
এই আইডিয়াটি কার জেনারেটেড যে মেয়েদেরকে প্রোগ্রামিং এ উৎসাহ দেবার লক্ষে এইরকম একটা কর্মসূচি ? এবং এটা কি হুট করে গড়ে উঠেছে, না দীর্ঘদিন এই প্ল্যান করা হয়েছিল ?
আইডিয়া টা আমার, আমি বেশ কয়েক বছর বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানি তে কাজ করেছি, এবং দেখেছি মেয়েদের সংখ্যা মাত্রারিতিক্ত কম।খুব কম সংখ্যক মেয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বা ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ে, তারও একটা বিরাট অংশ ঝড়ে পড়ে, তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে না, মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই এই ধারনা নিয়ে বড় হয় যে অঙ্ক এবং বিজ্ঞান খুব কঠিন এবং এগুলা তাদের জন্য না।অথচ, আই টি মেয়েদের জন্য খুবই ভাল একটা কাজ করার জায়গা।তো এই সমস্যার একটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে যে, বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই প্রোগ্রামিং শিখতে উৎসাহিত করা এবং সাহায্য করা। আই টি বিভিন্ন সম্ভাবনা এবং সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে জানানো।ছোটবেলা থেকে শিখতে শুরু করলে প্রোগ্রামিংটা এক সময়য় তাদের যখন দরকারে লাগবে তখন খুব সহজ হয়য়ে যাবে।যাই হোক, আমি যে কোন পরিকল্পনা গুগল ডকে লিখে রাখি, এটাও সেরকম একটা ছিল।গত বছর ডিসেম্বর এ আমার মনে হই যে চেষ্টা করে দেখি আসলেই করা যায় কিনা, অন্তত অনলাইন কমিউনিটি শুরু করি, আর ফান্ড পেলে আমরা workshop  ও করাব।আমি আমার প্রাক্তন কলিগ এবং বন্ধুদের সাথে নিয়ে কাজ শুরু করি। খুব বেশি পরিকল্পনা করে এটা শুরু করিনি, কিছু টা হুট করেই হয়েছে।

 

10442440_894297187269550_5844461563055422540_n

কোড ইট গার্লের কাজ সম্পর্কে একটু জানতে চাই
আমরা ৩ টা দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করেছি, তাছাড়া আমদের অনলাইন গ্রুপ তো চলছেই। আমরা এখানে নিয়মিত বিভিন্ন সহজ বই, টিউটোরিয়াল, ইত্যাদি শেয়ার দেই। মেয়েদের প্রশ্নের উত্তর দেই। বিশেষ করে বাংলায় লেখা রিসোর্স শেয়ার দেই।আমাদের গ্রুপ টা যেকোনো বয়সী মেয়েদের জন্য উন্মুক্ত, যারা প্রোগ্রামিং শিখতে আগ্রহী।“কম্পিউটার প্রোগ্রামিং” বই এর লেখক তামিম শাহরিয়ার সুবীন শুরু থেকেই কোড ইট গার্ল এর মেনটর হিসাবে আছেন। আর আমরা কয়েকজন বন্ধু এবং প্রাক্তন সহকর্মী একসাথে কোড ইট গার্ল এর শুরু থেকে কাজ করছি, এরা হচ্ছেন মিরফাত শারমিন, রিযভি বিন ইসলাম, শুভ্র রায়, তাপস পাল, মোস্তাক আহমেদ, আশিকুর রহমান, রাশিদুল হাসান। এটি এখন পর্যন্ত একটা ভলেন্টারি প্রতিষ্ঠান। আমরা সবাই চাকরি করি, বা নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যতটুকু সময়ই পাই তা এখানে দেই।

 

কর্মশালা এবং অনলাইনে মেয়দের সাড়া কেমন পাচ্ছেন ? queries জানাচ্ছে ?
কর্মশালার সাড়া খুব ভাল পেয়েছি। কিন্তু অনলাইন এ মেয়েরা প্রশ্ন করতে লজ্জা পায়। অনেক চিন্তা ভাবনা করে ভুল হল না ঠিক হল । দেখা যায় আমি ইনবক্সে প্রচুর প্রশ্ন পাই, কিন্তু গ্রুপে প্রশ্ন করতে ভয় পায়। তো এটা আস্তে আস্তে ঠিক হচ্ছে। যেমন গ্রুপে আগে খুবই কম প্রশ্ন আসতো। এখন সেটা বাড়ছে।

 

 কি কি প্রোগ্রামিং শেখান হয় অনলাইন বা কর্মশালায় ?
আমাদের ৩ টা ওয়রকশপ হয়েছে, একটা পাইথনের উপর, একটা এলগরিদম, একটা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে । তবে অনলাইন এ আমরা বিভিন্ন জিনিশ শেয়ার দেই বিভিন্ন বিষয়ে।

index

আপি, আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়ে সি শিখেছি, জাভা শিখেছি, কিন্তু ইমপ্লিমেনশন বলতে গেলে করেছি থিসিসের সময়, ম্যাটল্যাব যখন করলাম তখন ! জাভার ইমপ্লিমেনশন একাডেমিক্যালি আমার আর প্রয়োজন পড়ে নাই ! তাই এরা কি শুধু প্রোগ্রাম শিখছে, না ইমপ্লিমেন্ট করার জায়গাটাও বুঝতে পারছে ?
প্রোগ্রামিং এর বেসিক শিখছে, তবে আজকাল অনেক টিউটোরিয়াল এর শেষে একটা প্রোজেক্ট করতে হয়  যেখানে সত্যিকারের কাজ শেখা যায়। যেমন coursera. একটা কথা কি, আমরা ওদের আগ্রহ তৈরি করে দিচ্ছি, বাকি টা কিন্তু যেকোনো কাউকে নিজের চেষ্টায় করতে হবে। যারা আজকে google এ কাজ করছে, তাদের কে তাদের ইউনিভার্সিটি থেকে সব শিখিয়ে দেয় নি , নিজের চেষ্টায় তারা অর্জন করেছে। তুমি যদি একটা ল্যাঙ্গুয়েজ এ অন্তত খুব ভাল হও, নিজে থেকে অনেক প্র্যাকটিস কর, অনেক প্রবলেম সল্ভ কর, কিছু বানাও, তবে তুমি একসময় অবশ্যই একটা ভাল জব পাবে, এবং তখন তুমি অনেক নতুন কিছু শিখবে। পুরোটা কেউ কাউকে শিখিয়ে দিতে পারে না, পথ দেখিয়ে দিতে পারে। আগ্রহ থাকলে আজকাল অনলাইন এ এত রিসোর্স আছে, শেখা কোন ব্যাপার না যদি সদিচ্ছা থেকে থাকে।
আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া বা কম্পিউটার সায়েন্সে যাই পড়ি না কেন, আমাদের কিন্তু ক্লাসে কোড করান হচ্ছে, আমরা করছি, প্র্যাকটিস, এক্সাম দিচ্ছি, মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলছি, কিন্তু মাথা থেকে যাতে ঝেড়ে না ফেলি, ছোট ছোট প্রজেক্ট বেসড কাজ যাতে করতে পারি, সে প্ল্যান কি কোড ইট গার্লের আছে ?
কোড ইট গার্ল সবসময়ই বিভিন্ন অনলাইন জাজ, কম্পিটিশন এর খবর সবাইকে দিয়ে যাচ্ছে। যে কম্পিউটার সায়েন্স এ পরছে, তার যদি আগ্রহ থাকে তাহলে সে নিজের আগ্রহ থেকেই অনেক কিছু করবে। কেউ জোর করে কাউকে কিছু শেখাতে পারে না, নিজের চেষ্টাটাই সব চেয়ে বড়, আমরা মূলত স্কুল এর বাচ্চাদের টার্গেট করি, যেন বড় হতে হতে আগ্রহ এত ভাল ভাবে তৈরি হয় যে ঝেড়ে ফেলার ব্যাপার টাই না থাকে। দিন শেষে যার আগ্রহ এবং চেষ্টা আছে সেই ভাল করবে। যে দিন রাত ফেইসবুক করবে, আর কোন রকমে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করবে তার দায়িত্ব তার নিজেরই নিতে হবে। কোডিং অনেক পরিশ্রমের এবং সাধনার ব্যপার , প্রচুর পড়তে হবে, প্রচুর কোড লিখতে হবে। যে কম্পিউটার সায়েন্স এ পড়ার  সুযোগ পেয়েছে তার নিজের সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

আপনার গ্র্যাজুয়েশন ?
আমি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে Electronics and Telecommunications Engineering এ পড়েছি ।
আমার অ্যারনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এমআইএসটি তে ১৩ জন মেয়ে, প্রথম ব্যাচে ছিল ৪ জন, এখন নিউ ৭ নাম্বার ব্যাচে প্রায় ২২ জন মেয়ে ৬৫ জন স্টুডেন্টের মধ্যে ! আর আমাদের সিএসই ডিপার্টমেন্ট মেয়ের সংখ্যা ছেলের চাইতে বেশি ! আর বছর দশেক আগেও এটা ভাবাই যেত না ? এই যে এত এত মেয়ে আসছে আইটি সাইড নিয়ে পড়াশুনা করতে এটা কীভাবে বিবেচনা করছেন ?

খুবই ভাল! মেয়েদের অংক , প্রোগ্রাম এর ভয় কাটিয়ে আই টি তে আরও বেশি আসা উচিত, এটা খুবই ভাল কাজ করার জায়গা।

a5

ভবিষ্যতে কোড ইট গার্ল নিয়ে কি কি কাজ করতে চান ?

অনেক কিছু করতে চাই, জাতীয় workshop  এবং প্রতিযোগিতা করতে চাই। ব্লগ শুরু করতে চাই। বাংলায় আরও কন্টেন্ট বানাতে চাই।
সায়েন্স ফিকশন ভালবাসি, কিন্তু সায়েন্স নিয়ে পড়ার আগ্রহ অনেক মেয়েদের মধ্যে নেই, আর যেটা বললেন ঝড়ে পড়ে, তাদের জন্য যদি কিছু বলেন ?
আমরা বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করতে চাই, তাহলে ওরা ছোট বেলা থেকে জানবে যে কোডিং কি, আই টি তে কি কি সুযোগ সুবিধা, শিখতে হলে কি কি করতে হবে। তখন কম মেয়ে ঝড়ে পরবে। আরেকটা কথা মেয়েরা সাধারণত অনেক multitasking করে, প্রোগ্রামিং করার সময়য় একটা সমস্যা নিয়ে হয়ত দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করতে হবে, এই ফোকাস করার ব্যাপারটা ছোট বেলা থেকে প্র্যাকটিস করলে নিজের মধ্যে তৈরি হবে।

কোড ইট গার্লের ফেসবুক গ্রুপঃ https://www.facebook.com/groups/codeitgirl/

ফেসবুক পেইজঃ https://www.facebook.com/codeitgirl/?fref=ts

Advertisements