Search

ফেমিনিজমবাংলা (Feminism Bangla)

বাংলাদেশের নারীরা আজ এগিয়ে গেছে। কি ঘরে কি বাইরে লড়াই করে জিতে যাচ্ছে একজীবনের পাতি মেয়েরা। তাদের সেই লড়াইয়ের গল্প শুনব আমরা। শুনব তাদের ভেতরের কষ্টের কথা। সাথে জানব নারীদের জীবনযাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কথা বিশেষজ্ঞদের মুখ থেকে। ( Today, Bangladeshi Women are real champians. Most of them have struggled a lot against all odds and change their fate. We will listen their stories of survival. We will also listen their ups and downs.We will be informed about the important issus for woman from the specailist.)

ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধ না, একটা মেয়ে আসলে কি পারে না? সব পারে

ভাষা আন্দোলনে এবং মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে সেরকম কোন প্রামাণিক দলিল নেই। ছড়িয়ে ছিটিয়ে, পুরানো কাগজে লুকিয়ে আছে এই তথ্যগুলো। কিন্তু দেশরক্ষার তাগিদে নারীদের আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ভুমিকা এইভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখলে তার অবমাননাই করা হয়। সেই তাড়না থেকেই লেখক সুপা সাদিয়া বের করছেন “বায়ান্নর ৫২ নারী” এবং “ ৭১র নারী”। বইদুটি কথাপ্রকাশ প্রকাশনীতে পাওয়া যাচ্ছে। ২০১৪ সালে বইমেলায় সব কপি নিঃশেষ হবার পর এইবার এসেছে দ্বিতীয় সংস্করণ। সুপা সাদিয়া বর্তমানে রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক রিলেশন অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। ভাষার জন্য নারীদের আন্দোলনকে বইয়ের ভাঁজে তুলে আনার গল্পের পাশাপাশি সুপা সাদিয়ার সঙ্গে ফেমিনিজমবাংলার আড্ডায় উঠে এলো তাঁর অনেক দর্শনের গল্পও।

‘বায়ান্ন র ৫২ নারী’ এবং ‘৭১র নারী’ বই দুটি লেখার অনুপ্রেরণা

আমার বাবা এবং মামা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতে অনেক কাজ করেছেন। আসলে সব জায়গায় নারী মুক্তিযোদ্ধা বলতে বোঝায় বীরাঙ্গনা। মুক্তিযোদ্ধা তো মুক্তিযোদ্ধাই, তাঁকে বোঝানোর জন্য বীরাঙ্গনার প্রয়োজন নেই। তো এইসব তাড়না থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করি। জানতে পারি, ভাসা আন্দোলনে কি বিপুল পরিমাণ ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছিল সেইসময়ে। ৫২র নারী বইটিতে ৫২ জন নারীকে নিয়ে লিখি। লেখার পরে তুমুল সাড়া পাই। তারপরেই ৭১ র নারী বইটি লিখি।

‘বীরাঙ্গনা’ উপাধির প্রয়োজন নেই বলছেন

এই উপাধির আসলেই দরকার নেই। মুক্তিযোদ্ধাই বড় কথা। সে যুদ্ধ করেছে।

বইয়ের কাজ করতে কতটা সময় লেগেছে?

৩ বছর লেগেছে। ২০১১ থেকে শুরু করে ২০১৪ পর্যন্ত কাজ করেছি। ২০১৪ র বইমেলায় প্রকাশিত হয় এই গ্রন্থ। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, বই, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রায় ৩১ জনের তথ্য সংগ্রহ করেছি। ৭১ র নারীর বইতে ৭১ জন নারীর কথা এসেছে। বিশেষভাবে এসেছে ইন্দিরা গান্ধীর কথা।

supa 4

আপনার পড়াশুনা তো ইতিহাসে না?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএম কলেজ থেকে গণিতে অনার্স মাস্টার্স।

গনিতের ছাত্রী হয়ে

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পাবলিক রিলেশনে জব?

আমার ছোটবেলা কেটেছেই উদীচীতেই। এধারার কাজ করতেই আমি আগ্রহি ছিলাম বেশী,। ১৯৯৯ সালে যখন উদীচীতে বোমা হামলা হয়, আমি সেদিন ছিলাম না ভাগ্যের জোরে। আগের দিন বরিশালে চলে আসি। না হলে আমিও বাঁচতাম না।

বইয়ের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে কতটা কষ্টসাধ্য ছিল?

ফুলটাইম জবের পর সন্ধ্যায় এই কাজগুলো করতাম। মানুষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা ছিল ভীষণ কষ্টের। বাবা নিজেও এই ধরণের কাজ আগে করেছিলেন বলে অনেক পুরনো তথ্য বাবার কাছ থেকেও পাই।

একটা অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে আমাদের প্রজন্মে

আমাদের প্রজন্মে থেকেই এটা শুরু হয়েছে। মূল জায়গা হচ্ছে মোটিভেশন, সুক্ষ মোটিভেশন করতে ব্যর্থ হয়েছি এই প্রজন্মের কাছে। ভয়েস রাইস হচ্ছে না তেমন।

এই যে আস্তিক নাস্তিক ইস্যু…

যুদ্ধাপরাধীর বিচার থেকেই কিন্তু এমন এমন কথা বলা হচ্ছে যেখান থেকেই মূলত এই ইস্যুগুলো সৃষ্টি করা হচ্ছে। ধর্মটা এখন একটা রাজনৈতিক ইস্যু। আমি বহু মানুষকে দেখেছি, উদীচী করছে, গণজাগরণ করছে, খুব নামাজি কিংবা তাবলীগও করছে তারা। ধর্মের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাওয়া কোন কনফ্লিক্ট আসলে নেই।

যুদ্ধাপরাধীর বিচার তো হচ্ছে!

একদিকে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হচ্ছে, অন্যদিকে ঘরে ঘরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মানুষ তৈরি হচ্ছে। বেশী বেশী প্রচারণা দরকার। অলরেডি দুটো জেনারেশন নষ্ট হয়ে গেছে। এই জেনারেশনের ভেতর সত্য জাগাতে অনেক মোটিভেশন দরকার। পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে জোরাল প্রচারণা দরকার।

supa 2

মুক্তিযোদ্ধাদের মানবেতর জীবন

যারা যুদ্ধ করছেন তাদের কাছে সম্মানটাই বড়, তাঁদের প্রত্যাশা সরকার এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়াক।

সরকার কি পেরেছে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সম্মান দিতে?

আসলে সব সরকারই নিজেদের আখের গুছাতে ব্যস্ত। জনসাধারণের ক্যাটাগরিতে মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের এখানে বিসিএস ক্যাডার প্রথম সারির নাগরিক। মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম সারির নাগরিক না।

বই নিয়ে পরিকল্পনা?

ভবিষ্যতে বই নিয়ে প্রচুর কাজ করার চিন্তা আছে। আরও তথ্য সংগ্রহ করছি।

ফ্যামিলি কেমন সাপোর্ট করে এইসব কাজে?

ছোটবেলা থেকে আমাকে কখনও ছেলে মেয়ে আলাদা করে মানুষ করা হয় নি। আমি মানুষ হিসেবে বড় হয়েছি। আমার পরিবার, আমার দাদার পরিবার ভীষণ প্রগতিশীল ছিল। বাবা এ ধরণের কাজ করেছে এবং আমাকেও উৎসাহ দিয়েছে। বিয়ের পর পেয়েছি স্বামীর কাছে উৎসাহ। রায় ১১ টা ১২ টা বেজে যেত কাজ করতে করতে। স্বামী নিজেই চা বানিয়ে দিত, রান্না করত। অনেক সাহায্য করেছে আমাকে।

supa 5

 

নারী মুক্তি কি এসেছে?

একদমই না। পরিবারগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। একটা কথা কি, পুরুষরা নারিমুক্তি নিয়ে প্রগতিশীল কথা বলে, কিন্তু জায়গা ছেড়ে দিতে পারে না। বাইরে নারীমুক্তি নিয়ে বড় বড় বুলি বলা লোকেরা নিজেদের বউ বা মেয়েকে সাপোর্ট দিতে পারে না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মেয়ে হওয়া মানেই ঘর সংসার করা, রান্নাবান্না করা। নারীদের বড় বড় ভুমিকায় আসা উচিত।

নারী মুক্তিযোদ্ধারা আজকের দিনে নারীদের জন্য কতটুকু প্রেরণা হতে পারে?

ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধ না, একটা মেয়ে আসলে কি পারে না? সব পারে। দেশের জন্য নিজের জীবন, সতীত্ব দেওয়া নারী মুক্তিযোদ্ধারা অনেকাংশে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের চাইতেও বড়। তাঁদের বিশাল বিশাল স্যাক্রিফাইসের কারনেই আজকে আমাদের এই দেশ।

 

Advertisements

কেউ তোমার জীবন চেঞ্জ করতে আসবে না, তোমাকে মুক্তি দিতেও না

ফারহানা মুনা। বাংলাদেশের মেয়েদের যেখানে রা কাটে না, সেখানে তিনি বাংলাদেশের নামকরা ইউটিউবারদের একজন।  খুব অল্প সময়ে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আর কমেডিরচ্ছলে দৈনন্দিন জীবনের গল্প দেখানোর ফলে ফারহানা মুনাটিক এখন সবার মুখে মুখে। কিন্তু এই পথটা ঠিক অতটা সহজ না। বিবাহিত মেয়ে ক্যামেরার সামনে সাবলীল অভিনয় করছে, কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে, এটা ঠিক এখনও এই সমাজ মেনে নিতে প্রস্তুত না। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট হচ্ছেন তার শাশুড়ি। যিনি কিনা পাঞ্জাব লুধিয়ানার ফুড ও নিউট্রিশিয়ান ডিপার্টমেন্টের হেড। শুধু ইউটিউব না, মুনা আপুর সঙ্গে  ফেমিনিজমবাংলার আড্ডায় উঠে এলো নারী আর নারীর ক্ষমতায়নের অনেক গল্প।

ইউটিউবার হওয়ার আগ্রহ কি হুট করেই এলো?

আমার কোন চিন্তাই ছিল না ইউটিউবার হবার। আমি ছিলাম ফুল টাইম টিচার। মিডিয়া, এন্টারটেইনমেন্ট, নাচ,গান কিচ্ছু করতাম না। তো ঈদের দাওয়াতে গিয়েছিলাম। ওটা ছিল যাকে বলে খাস বাঙ্গালী সার্কেল। এক বছর পর ওরকম একটা সার্কেলে গিয়েছিলাম। ২০ কিলোর মত ওজন তখন কমিয়েছিলাম। সব মহিলারা প্রায় ঝাঁপায় পড়ছে। ওই জিনিসটাই অ্যাক্টিং করে স্বামীকে দেখিয়েছিলাম। স্বামী হাসতে হাসতে শেষ। তো সেটাই কি ভেবে অ্যাক্টিং করি, ভিডিও করি। ফেসবুকে আর ইউটিউবে দিয়ে ঘুমাতে চলে গেলাম।ঘুম থেকে উঠে দেখি ২১টি ভিউ। কতবড় ব্যাপার ২১ জন আমার ভিডিও দেখেছে। পরের দিন ভিডিওটা মজা লস শেয়ার দেয়। সঙ্গে আরও অন্যান্য সাইট। ৬০ থেকে ৭০ হাজার ভিউয়ারস হয়ে যায়। মেসেজ আসতে থাকে আরও চাই আরও চাই। আমনও মেসেজ আসল “আমার খুব খারাপ দিন যাচ্ছে, আপনার ভিডিও দেখে অনেকদিন পর হাসলাম”। তো আমি ভীষণ ইন্সপায়ারড হলাম। এরপর থেকেই শুরু।আরেকটা বানালাম, আরেকটা বানালাম। এভাবেই চলছে।

ভিডিওর সাবজেক্ট কীভাবে বাছাই করেন?

ঢাকা থেকে আট বছর বাইরে আছি। খুবই কম যাওয়া হয়। তাই ঢাকায় কি হট টপিক চলে আমি জানি না। অনেক হট টপিক, অনেক ট্রেন্ড চলে যায়, আমি দেখতেও পাই না। তাই আমি কমেডি টাইপ করে মূলত হিপোক্রেসিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করি।

muna 2

নিজেকে কতটুকু আর্টিস্ট ভাবেন?

আমি প্রফেশনাল অ্যাক্টর না, আবার আর্টিফিশিয়ালও না। আম্মু বাসায় যেমনে নাক ডাকে, দেখি,সেভাবেই নাক ডেকে অভিনয় করি। রিয়েল লাইফের চরিত্রগুলোই অনুকরণ করে অভিনয় করি।

কোন মেসেজ দেবার জন্যই কাজ করা হয়?

আমার মনে হয় অন্যান্য যারা ভিডিও বানান, তারাও কমেডির ছলে মেসেজই দিতে চায়। আমি একজন মেয়ে হিসেবে জানি মেয়েদের ঠিক কি কি ফেস করতে হয়, চাকরিতে কিংবা একজন জিএফ হিসেবে, বোন হিসেবে। এই সবগুলোই আমি যদি তুলে ধরতে পারি, তাহলেই আমি সার্থক।

মেয়েদের কতটা ইন্সপায়ার করতে পারছেন?

শয়ে শয়ে মেয়েরা আমাকে মেসেজ করে। তাদের মধ্যে রয়েছে হাউজওয়াইফ, কর্পোরেট, টিনএইজ। মেসেজ দেয় তারা “সাহস পাচ্ছে আমাকে দেখে তারা। পাবলিকলি একজন মেয়ে নিজেকে এক্সপোজ করছে, ম্যারিড হয়েও কোন তোয়াক্কা করছে না, এইসব তাদেরকে অনুপ্রাণিত করে”। আমাকে দেখে যদি ৫ টি মেয়েও ইউটিউবে আসে আমি সফল। বাউন্ডারি তো কাউকে না কাউকে ভাঙতেই হবে। সেটা আমি ভেঙ্গেছি।

বাজে মেসেজ, কমেন্ট আসে না? তখন মানসিক অনুভূতি কি হয়?

প্রথমে তো খুবই খারাপ লাগত। এখনও লাগে। আমিও তো মানুষ। সবসময় বোদার করিও না। কিছু নেগেটিভ কথা নিয়ে ভাবিও। আমার ভিডিও দেখে দশটা মানুষেই হাসবে না। তারা আমাকে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করতে পারে। কিন্তু কিছু লোক আজাইরা গালিগালাজ করে, ফ্যামিলিকে বাজে কথা বলে, ন্যুড ছবি দেয়। খুব খারাপ লাগে। তাই সকালবেলা এখন আমার প্রথম কাজ হচ্ছে পেইজকে ক্লিন করা। “রেপ কমেন্ট”গুলোকে ডিলিট করা। স্ট্র্যাটেজি হচ্ছে রোজ আমি কিছু পজিটিভ মেসেজ পড়া দিয়ে দিন শুরু করি। তারপর বাজে মেসেজ পড়লে মেজাজ গরম হলে, বন্ধু বা স্বামীর সাথে যত তাড়াতাড়ি পারি শেয়ার করি। একটু পর দ্রুত ভুলে যাই। আমি পজিটিভ নেগেটিভ দুটোর সঙ্গেই ডিল করি। নিজেই মোটিভেটেড হই এইভাবে।

muna 5

দেশে কবে এসেছিলেন?

২০১৫ র মে তে এসেছিলাম। ২০১৬ তে আবার আসব। টুকটাক কিছু প্রজেক্ট, অ্যাড হাতে নেবার ইচ্ছা আছে।

প্রথম ভিডিও কবে আসে?

২০১৫ সালের ২৬ শে সেপ্টেম্বর। খুব বেশীদিন আগের না।

দেশের বাইরে বহুদিন আছেন! নারীরা ওখানে কতটুকু বৈষম্যের শিকার হচ্ছে?

ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডে জেন্ডার ডিস্ক্রিমিনেশন ভয়াবহ। চাকরির টপ র‍্যাঙ্কে বেশির ভাগ মেয়েই নেই। কোম্পানির সিইও হয়ত ১% র মত মেয়ে থাকতে পারে। এই বৈষম্য চলে কথায় চলে, কাজে চলে। কোম্পানি তে মেয়েরা মুখে মুখে কত হ্যারাজ হয়, কিন্তু ভয়ে প্রতিবাদ করে না, জব থেকে বের করে দিবে বলে। শুধু অ্যাকাউনটিবিলিটি এই যে, সরকারের কাছে আমি আবেদন করতে পারি।

আপনার চাকরির অভিজ্ঞতা বলেন!

আমি তো টিচিং এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ল ফার্মে ট্রেইনিং কো-অরডিনেটর ছিলাম। ওখানে আমি ইকুয়াল অপরচুনিটি পাই নি। কোন ছেলে যদি পারফরম্যান্স ভাল করার চেষ্টা করত তাকে বলা হত কি ambitious ছেলেটা, আর আমি করলেই আমাকে বলা হত “Oh! You are being aggressive”! আমার এক মেল ম্যানেজার একবার আমাকে সেকজুয়াল হ্যারাজ করার চেষ্টা করে। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে চাকরি থেকে ফায়ার করে দেওয়া হয়। আমি অস্ট্রেলিয়া গভঃ এর কাছে আবেদন করি। আমাকে চাকরি ফেরত দেওয়া হয়, আমি অবশ্য চাকরিতে ফিরে আর যাই নি। ওই লোকের বিরুদ্ধে আমি ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশনে যাই, সে ক্ষমা চায়। কোর্ট অ্যাকশনে যাই নি। জাস্ট পার্থক্য এই যে এখানে আমি সহজে লিগ্যাল অ্যাকশনে যেতে পারি, কিন্তু ডিস্ক্রিমিনেশন কম না!

muna 6

ছোটবেলার কথা একটু জানতে চাই!

আমি বিজনেস লাইনে পড়াশুনা করেছি। জন্ম মিডলইস্টে। ক্লাস সিক্স টু টুয়েলভ মানারাতে পড়লাম। এরপর বিদেশে আসার প্ল্যান করি। আমাকে মানারতে পড়ার সময় জোর করে বোরখা পরান হত। তো আমি বাইরে যাবার কথা বললে আমার ফ্যামিলি কিছুতেই মেনে নিল না। বলল বিয়ে ছাড়া বাইরে দিতে দিবে না। আমি তখন কিছুতেই ওই পরিবারে থাকব না। তো কি আর করা! হাঙ্গার স্ট্রাইক শুরু করলাম। বিদেশে পাঠান হল আমাকে বড় ভাইয়ের কাছে। সেই থেকে আট বছর।

নারী মুক্তি আপনার কাছে কি?

অস্ট্রেলিয়া তে আমি যেটা ইচ্ছা সেটা করতে পারছি। কেউ কিছু মনে করছে না। টু বি অনেস্ট এই নারী মুক্তি টার্মটা কিন্তু কোন এক্সটার্নাল জিনিস না। নারিদের ভিতর থেকেই মুক্তি চাইতে হবে। নিজ হাতে নিজেকে মুক্ত করতে হবে। To be free, own it and take responsibility- ফিমেল empowerment র জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস বলে মনে করি।

নিজ জীবন থেকে এই নারী মুক্তি কীভাবে দেখেছেন?

আসলে কেউ তোমার জীবন চেঞ্জ করতে আসবে না, তোমাকে মুক্তি দিতেও না। আমার মা ই তো বলে বিয়ের পর সংসার ফালাইয়া কি ক্যামেরার সামনে ফালাফালি করস!  কিন্তু আমি নিজেকে ফ্রি করি, যাচাই করি আমি কে? আমি কি হ্যাপি থাকব এটা ছাড়া? উত্তর পেয়েছি না। দেন আমি এটাই বেছে নিয়েছি।  ফ্যামিলিকে মানিয়ে করা গেলে খুবই ভাল। কিন্তু প্যাশন কে দম করে কাজ করলে সেটা বেশীদূর আগান যায় না।

muna 7

তাহলে কি ফ্যামিলি সাপোর্ট একদমই আসে না?

আমার বড় সাপোর্ট কে বলত? আমার শাশুড়ি। আনিতা তাঁর নাম। তিনি পাঞ্জাবের লুধিয়ানার ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশিয়ান হেড অফ দি ডিপার্টমেন্ট। পিএইচডি হোল্ডারও। তিনি আমার কাজে ভীষণ সাপোর্ট দেন। তিনি আমাকে বলেন প্রত্যেক মেয়ের নিজস্ব আইডেন্টি থাকা উচিত। তিনিই আমাকে বলেছেন “ ছেলেকে নিয়ে যতটুকু গর্ব করি, তোমাকে নিয়ে তার চাইতেও যেন বেশী গর্ব করতে পারি” । শী ইজ মাই বিগেস্ট রোল মডেল। তাঁকে দেখেই বুঝেছি ফিমেল এমপাওয়ার মানে ঘর বাড়ি সংসার ছেড়ে দেওয়া নয়। সব কিছু করেই নিজের কাজকে মেইনটেইন করাই ফিমেল এমপাওয়ারমেন্ট।

 

 

বাংলাদেশের মেয়েদের নিয়ে কতটুকু আশাবাদী!

ওয়েস্টার্ন দেশে মেয়েদের মধ্যে ভীষণ পলিটিক্স, জেলাসি। কম্পিটিশন গ্রহণযোগ্য, কিন্ত জেলাসি না। সেটাই এই দেশগুলোতে হয়। একে অপরকে নিচে নামাতে চায়। সেই দিক থেকে বাংলাদেশের মেয়েদের মধ্যে প্রচণ্ড সিস্টারহুড বজায় থাকে। মেয়েরা মেয়েদের সাপোর্ট করে প্রচুর। এভাবেই বাংলাদেশের মেয়েরা এগিয়ে যাবে, ফ্যামিলিও আর বাঁধা দেবে না, তাদের পাশে থাকবে।

 

 

নারীকে সমাজের মাপকাঠিতে মাপার দিন ফুরিয়ে এসেছে

একটা মেয়ে কে খুব সহজে এই সমাজ খারাপ বলে! আচ্ছা একটা মেয়ে জিন্স শার্ট পরলেই খারাপ হয়? সিগারেট খেলেই খারাপ হয়? এই সমাজ খুব সহজে খারাপ মেয়ে নির্ধারণ করে ফেলে। সেই চিন্তা থেকেই ৮ই মার্চ নারীদিবসে একাত্তর টিভিতে মুক্তি পাচ্ছে ডকুফিকশন To Define a Bad Girl। দীর্ঘ ৯ বছর টিভি সাংবাদিকতার পর চলচিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন মুনমুন শারমিন শামস। চলচিত্র নিয়ে তাঁর স্বপ্ন আর To Define a Bad Girl র পর্দার পেছনের গল্প উঠে এলো মুনমুন আপুর সঙ্গে ফেমিনিজমবাংলার আড্ডায়। 

ফিল্মের প্রতি আপনার আগ্রহ এলো কি করে ?

আমি টেলিভিশনে কাজ করেছি ৯ বছর। এই ৯ বছর নিউজ বানিয়েছি। কিন্তু সবসময় মনে হয়েছে, আমার চিন্তার জগতে আরো অনেক কিছু আছে যা আমি নিউজের ফরমেটে আবদ্ধ থেকে প্রকাশ করতে পারি না। সেটা সম্ভব যদি আমি ফিল্ম বানাই।

5

 

প্রথম ডকুর কাহিনী হিসেবে টু ডিফাইন এ ব্যাড গার্ল কেন ?

আমি নারী ইস্যুতে লিখি, আমার ইচ্ছে ফিল্ম বানাবো এই বিষয়গুলো নিয়েই। এটা আমার একটা ব্যাক্তিগত মুভমেন্টের জায়গা। টু ডিফাইন এ ব্যাড গার্ল এর একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। কোন একদিন আমাকে একজন একটা মেয়ের সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল, আমি তাকে কীভাবে চিনি। তারপর বলেছিল, মেয়েটা খারাপ। আমার প্রশ্ন ছিল তার কাছে, খারাপ মানে কী? এই প্রশ্নের কোন গ্রহণযোগ্য উত্তর সে দিতে পারে নাই। মেয়ে খারাপ, এই কথা আমি ছোটবেলা থেকে নানাজনের মুখে শুনে এসেছি নানা মেয়েকে নিয়ে। এটা একটা বিস্ময়ের ব্যাপার, এই সমাজ নির্ধারণ করে মেয়ে খারাপ না ভালো কতগুলো অদ্ভুত নির্ধারক দিয়ে। আমি সমাজকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই তারা চিন্তার জগতে কতটা হীন আর নীচ।

t1

চরিত্র নির্ধারণ কীভাবে করেছেন ? অভিনেত্রী নির্বাচন করে চরিত্র সাজিয়েছেন, না চরিত্র ঠিক করে অভিনেত্রী নির্বাচন করেছেন ?

এটা ডকুমেন্টরি। এর চরিত্রগুলো বাস্তব। এরা সত্য।এদের বাস্তব থেকে তুলে এনে ডকুতে তুলে ধরেছি।

আপনার ডকুফিকশানের টার্গেট অডিয়েন্স কারা ?

আমার টার্গেট অডিয়েন্স সবাই। যারা মুক্তমনের অথবা যারা পুরুষতান্ত্রিক চিন্তায় বিশ্বাসী, যারা প্রগতিশীল, যারা গোড়া – নারী পুরুষ সবার জন্য।

কি মেসেজ দিবে এই ডকু ফিকশন সমাজকে ?

এই ডকু ফিকশান সমাজকে আরেকবার ভেবে দেখতে বলবে, তারা যে মানসিকতা ধারণ করে নারীর প্রতি তা কতটা সুস্থ ও সুন্দর, কতটা যৌক্তিক, কতটা রুচিশীল। নারীকে সমাজের মাপকাঠিতে মাপার দিন ফুরিয়ে এসেছে – এটা সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই।

37     t2

একজন নারী ফিল্ম মেকার হিসেবে অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরোতে হয়, সে জায়গায় নিজেকে কতটা সফল মনে করছেন ?

নারী ফিল্ম মেকার বলে কোন ঘাত প্রতিঘাত পেরোই নাই এখন পর্যন্ত, কারণ আমি নিজেকে নারী ভেবে পথ চলা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। একজন ফিল্ম মেকার হিসেবে কেবল পথ চলার শুরু। সেটাই ঠিকমত করতে চাই। একজন ফিল্ম মেকার হতে চাই। তবে হ্যা, একজন পুরুষ হলে নিশ্চয়ই আমার কাজ আরো নির্বিঘ্নে করতে পারতাম, এই সমাজ, এই পরিবার কাঠামোর মধ্যে আমার কাজ পুরুষের তুলনায় অবশ্যই একটু হলেও কষ্টসাপেক্ষ। আমাকে আমার সন্তান আর সংসারের কথা ভেবে সব গুছিয়ে নিজের কাজ করতে হয়। পুরুষ হলে হয়তো এতো কিছু ধার না ধেরে নিজের কাজটা নিয়েই পড়ে থাকতে পারতাম।

10.jpg      t3

 

সামনে আরও কি কি ড্রিমপ্রজেক্ট আছে ?

আমি সংবাদ জগতের মানুষ বলেই ডকুমেন্টরির প্রতি আমার ভালোবাসা বেশি। পাঠশালার ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আমি। চলচ্চিত্রের যেকোন শাখাতেই হয়তো কাজ করবো। শর্ট ফিল্ম বা পূর্ণদৈর্ঘ্য। ইচ্ছে আছে টেলিভিশন নাটক নির্মানেরও। দেখা যাক।

 

 

‘মেহেরজান’ আমাকে ভীষণ পজিটিভ হতে শিখিয়েছে

২০১১ সালে প্রথম চলচিত্র ‘মেহেরজান’ পড়েছিল বিতর্কের মুখে। “শিল্পকর্মের ভুল অ্যানালাইজ করে হল থেকে নামিয়ে ফেলা হয়েছিল সেই ছবি”। ২০১৬ সালে ২২ জানুয়ারি আজকে। পাঁচ বছর বিরতির পর আজ থেকে হলে মুক্তি পাচ্ছে  তাঁর নতুন ছবি “আন্ডার কন্সট্রাকশন”। পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের কথা বলছি। এশিয়ার দশ নারী ফিল্ম মেকারের মধ্যে একজন তিনি।নিউইয়র্ক ভার্সিটিতে সিনেমা স্টাডিজে পড়াশুনা করেছেন। তবে তাঁর অনার্স ছিল ওমেন স্টাডিজে, পেনিসেলভেনিয়া ইউনিভার্সিটিতে।এই কারণেই কি নারীই তাঁর ছবির একমাত্র উপজীব্য! তাই আবারও নারী জীবনের এক আত্মঅনুসন্ধানের মুভি হয়ে উঠল ‘আন্ডার কন্সট্রাকশন ‘। ফেমিনিজমবাংলার আড্ডায় উঠে এলো পর্দার পেছনের গল্প, নারীজীবন নিয়ে তাঁর দর্শনের কথা।

‘আন্ডার কন্সট্রাকশন’ নামটা কেন?

অনেক ইন্টারভিউতে এর উত্তর বলেছি।আচ্ছা আবার বলি, মুভিটাতে একটা মেয়ে, রয়া,একজন থিয়েটারকর্মী, তার আত্মঅনুসন্ধানের গল্প রয়েছে। রয়া নতুন করে মঞ্চে নির্মাণ করে রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’কে। এই যে রয়ার এই বিনির্মাণ, অন্যদিকে ময়না কিংবা নারী জীবনের যে সংগ্রাম তা কিন্তু শেষ হয় নি। বরং চলছে। আমার ছবিতে ইন্ডিংটা তাই এইভাবে অসমাপ্ত রাখা,আমি কিন্তু রয়াকে কোন এস্টাব্লিশ রুপে দেখাই নি শেষে। এই বহমান সংগ্রাম এখনও কন্সট্রাক্ট হয় নি। তাই নাম রেখেছি “আন্ডার কন্সট্রাকশন”।

রয়ার মধ্যে আমরা বাংলাদেশী মেয়েরা নিজেদের খুঁজে পাই!

শুধু বাংলাদেশী না, আমি সাউথ আমেরিকা তে দেখিয়েছি মুভি,ওখানকার মেয়েরাও বলেছে “রয়া তাদের জীবনের গল্প”। ইউরোপের মেয়েরাও একই কথা বলেছে। আসলে রয়া মিডলক্লাস একটা ওমেনের গল্প। এইখানে সাউথ, ইউরোপ কোন কিছুতেই রিলেট করা সম্ভব না।

Universal Character বলছেন?

Universal কথাটা আমি বলব না! আমি বলব common element।রয়া এইখানে রানা প্লাজা নিয়ে কাজ করছে, যক্ষপুরীর সঙ্গে তুলনা করেছে আজকের ঢাকাকে। তাই রয়া হয়ে উঠেছে সব মেয়ের গল্প। কোন বিশেষ ক্লাস বা গোত্র না!

আপনি রয়ার মাকে একসাথে প্রচণ্ড কনজারভেটিভ এবং স্বাবলম্বী নারী হিসেবে দেখিয়েছেন। আবার রয়া মুক্তমনা, কিন্তু স্বাবলম্বী না! ফেমিনিজমের সংজ্ঞা আপনার কাছে কি ? স্বাধীনচেতা হওয়া না স্বাবলম্বী?

আমার কাছে ফেমিনিজমের কোন একক সংজ্ঞা নেই। সারা বিশ্বেই বলা হচ্ছে there is no one way to define feminism। এটা পরিবর্তিত হয় পারসন টু পারসন, কমিউনিটি টু কমিউনিটি। এই যেমন হিজাব পড়াকে আমরা প্রচণ্ড কনজারভেটিভ মনে করি। কিন্তু ফ্রান্সের মুসলিম মেয়েদের হিজাব পড়ার প্রতি নিষেধাজ্ঞা জ্ঞাপন করার পর, ওখানকার মেয়েরা এখন হিজাব পড়ছে প্রতিবাদস্বরূপ হিসেবে! এটা কে কি বলবেন আপনি? আমার সিনেমায় দুই জেনারেশন দেখার মাধ্যমেই নারীর empowerment বিষয়টা তুলে ধরেছি। কনজারভেটিভ মা,তিনি কিন্তু নিজেই বলে উঠেছে “আমার কাউকে দরকার নেই, আমি একাই চলতে পারি”। মায়ের কিন্তু আমাদের দরকার নেই, আমাদের কিন্তু মা কে ঠিকই দরকার। মা নিজের টাকায় চলেন, রয়া সেখানে আত্মনির্ভরশীল না। Woman empowerment র যে হাজারটা শেড আছে তাই আমার সিনেমায় উঠে এসেছে। সিনেমাটা প্রিজমের মত কাজ করেছে এই ক্ষেত্রে। প্রিজমে যেমন এক আলো কেন্দ্রীভূত হলে সাত আলোর রং পাওয়া যায়, সেইরকম আমার সিনেমায় উঠে এসেছে বিভিন্ন মিনিং এর লেয়ার।

r3

রয়া যখন হিরো

হিরো বা কেন্দ্রীয় চরিত্র সর্বদা হয় খুব ভাল বা আদর্শ কিছু। রয়া কিন্তু কোন আদর্শ চরিত্র না। তার মধ্যেও হাজার খারাপ দিক আছে। সে ময়নার সঙ্গে চিল্লাচিল্লি করে, মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে, নিজের সংসারে তার ভুলত্রুটি আছে, বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ইমতিয়াজের সঙ্গে সে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠে তার। এই সবকিছুই প্রমাণ করে রয়া হিরো না, রয়া নর্মাল ক্যারাক্টার।

 

অনেকেই বলে বিশ্বের সব দেশেই বেশীরভাগ মেয়েরা কোন জবের টপ পজিশনে যায় না, বাংলাদেশের নারীরা…।।

বাংলাদেশের নারীদের ক্ষেত্রে তো আমি সেইভাবে কিছু দেখিনি। বরং আমি দেখছি এখানে মেয়েরা এখন ভীষণ পজিটিভ। জুঁইয়ের গল্পটা দেখুন, স্বামী হাতের আঙ্গুল কেটে দিয়েছে, তারপরও কি অদম্য উৎসাহে বোর্ড পরীক্ষা দিতে গিয়েছে। কিংবা রুমানার কথাই যদি বলি, স্বামী অন্ধ করে দিয়েছে, সিঙ্গেল মাদার হিসেবে জীবন লিড করছে, পিএইচডি করছে। আমাদের দেশের গার্মেন্টসের মেয়েদের দিকেই তাকান। দেশের সবচেয়ে বেশী রেভিনিউ আসছে যে উৎস থেকে, তার পিছনেই আছে হাজার হাজার নারী। এইসব দেখলে মনে হয় বাংলাদেশের মেয়েরা অনেক অনেক এগিয়ে গেছে। রয়া তো জুঁইয়ের ঘটনা শুনেই নিজে সাহস পায়,দৃঢ় ডিটারমিনেশন করে। এখনকার বাংলাদেশের মেয়েরা প্রত্যেকেই ভীষণ পজিটিভ ভাবে সব অন্যায়ের প্রটেস্ট করছে।

৫০০ জন মেয়ের জন্য ফ্রি তে প্রদর্শনী! বাংলাদেশের জন্য প্রথম! ডিস্ট্রিবিউশনের এই চিন্তা কি আগের থেকেই মাথায় ছিল?

সেরকম ভাবে না। স্ক্রিনিং এর এই আইডিয়া আরও পরে এসেছে। গল্পটা যেহেতু মেয়েদের ছিল, ভাবলাম সব ফিমেল দর্শকদের সবাইকে একসঙ্গে করি। এতে করি মেয়েরা ফিল করবে তাদের আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দর্শক হিসেবে তারা আলাদা ইন্টারেস্ট পাবে, এইজন্যই এই এনভায়রমেন্ট ক্রিয়েট করা। তাছাড়া আমার সঙ্গে প্রচুর নারী ফিল্ম মেকার কাজ করেছিল। তাদের প্রত্যেককে প্রদর্শনীর শেষে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেই। এতে করে মেয়েরা অনেকেই encourage ফিল করবে। দেশে তো সিনেমা বানানোর ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ের সংখ্যাটা ভীষণ ইমব্যাল্যান্স। কজন মেয়ে আছে ডিরেকশন দিচ্ছে, এডিট করছে কিংবা সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছে? তাই মেয়েদের এই পেশাতে আসার প্রতি encourage করানও একটা লক্ষ্য ছিল এই প্রদর্শনীর।

কাছের হলগুলোতে কবে আসবে? মানে ৫০ টাকার দর্শকও যাতে afford করতে পারে এমন?

বলাকা, শ্যামলী, সিনেপ্লেক্স এবং যমুনাতেই প্রথম ধাপে দেখান হচ্ছে। আসলে আমাদের প্রোডাকশনও তো নতুন। তাই নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে এত বেশী হলে distribute করাটাও তো ডিফিকাল্ট। এই হলগুলোতে চলুক, পরে আরও হলে ডিম্যান্ড এলে অবশ্যই নেব সেখানে। তাছাড়া ঢাকার বাইরে খুব শীঘ্রই বিভিন্ন অডিটোরিয়ামে দেখান হবে মুভিটা। তখন টিকিটের দাম এমনিই কম থাকবে।

মেহেরজান আমি দেখি নি! বিতর্কের ইস্যুতে আমি যাব না! কিন্তু ২০১১ র পর ২০১৬ তে এসে আন্ডার কন্সট্রাকশন, এই বিশাল গ্যাপ কেন?

একটা ফিল্ম যে বানায়, ওভাবে বিতর্কের পর, যা বোঝাতে চেয়েছি তা ঠিকভাবে অ্যানালাইজ না করে, ভুল ব্যাখা দিয়ে হল থেকে নামিয়ে দেবার ঘটনা একজন নতুন ফিল্ম মেকারের জন্য প্রচণ্ড ডিফিকাল্ট সিচুয়েশন। এর মধ্যে আমি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি তে সিনেমা স্টাডিজে পড়েছি। আর ১৬ তে আন্ডার কন্সট্রাকশন মুক্তি পেলেও আমি কাজ শুরু করেছি ১৩ তে। এডিটিং এ আমি অনেক বেশী সময় নিয়েছি, প্রায় ৯ থেকে ১০ মাস। প্রায় ২৭ থেকে ২৮ টা ভার্সনে এডিট করেছি এই মুভি। জুলাই মাসের রিলিজ হওয়ার কথা ছিল। তখন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে বলা হল, তারা এটা প্রিমিয়ার করতে চায়। তাই আরও পিছিয়ে ছয় মাস।

r5

আচ্ছা একটা কথা জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, “মেহেরজান” এর পর কি অভিমান হয়েছিল?

অভিমান হয় কাদের সাথে বলুন? যাদেরকে আমি চিনি, যারা আমাকে চিনে, আমি কি কাজ করি তা জানে, তাদের সঙ্গে। যাদের আমি চিনি না, তাদের সঙ্গে অভিমান করতে যাব কেন? তবে মেহেরজান আমাকে একটা বিষয়ে ভীষণ পজিটিভ বানিয়েছে। কেউ যদি খুব খারাপ বলে বিচলিত হবার কিছু নেই, ভাল বললেও অনেক বেশী খুশি হবার কিছু নেই। নিজের কাজের জায়গা নিজেকেই করে নিতে হবে। কেউ বললেই আমি ভাল, কেউ বললেই আমি খারাপ, এটা কখনই ভাবা ঠিক না। কারও ভালমন্দের রিঅ্যাকশনের উপরে বেস করে আমি কাজ করছি না। এই যে এখন আন্ডার কন্সট্রাকশন বানানোর পর অনেকেই বলছে আমি গ্রেট একটি ছবি বানিয়ে ফেলেছি! এর মানে কি এই আমি ফিল্মের জগতে বিশাল কিছু হয়ে গেছি! মোটেও না! কোন ভাল খারাপ প্রশংসা আমাকে নিয়ন্ত্রন করে না।

প্রথম ছবিতে জয়া বচ্চন, দ্বিতীয় ছবিতে শাহানা গোস্বামী! বলিউডের নায়িকারাই কেন আপনার ছবির মেইন রোল?

মেহেরজানে কিন্তু আমি কবরীকে অফার করেছিলাম, করেননি। আলী যাকেরকেও করেছিলাম, তিনিও করেন নি। আমার সবসময় ফার্স্ট চয়েজ এই দেশের অভিনেতা অভিনেত্রীদের নিয়েই ছিল। আমি তাঁদের নিয়েই কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। আর শাহানা গোস্বামীকে সিলেক্ট করা হয়েছে অডিশনের মাধ্যমে। বাংলাদেশ থেকে দুজন এবং ইন্ডিয়া থেকে দুজনের অডিশন নেবার পরেই শাহানাকে সিলেক্ট করি রয়া চরিত্রের জন্য।

বাংলাদেশের মানুষ নাকি larger than life ছবি দেখতে ভালবাসে!ইয়া ঢিসুম ঢিসুম……, মানে বাস্তবে যা হয় না! আচ্ছা নারী হিরো হবে সেটা তো larger than life র মধ্যেই পড়ে, তাহলে নারীকে হিরো বানানোর প্রবণতা কম কেন?

এটা তো গ্লোবাল কন্টেক্সটই। ১০০ কোটি ফিল্ম হিসেবে আখ্যায়িত পেল পাশের দেশের জয়া আখতারের ‘জিন্দেগি মিলে না দোবারা’, গল্প বলল তিন ছেলেকে নিয়ে! কেন তিন মেয়েকে নিয়ে নয়? কারণ ছেলেদের নিয়ে গল্প বললে হলে লোক পাবে, মেয়েদের নিয়ে নয়। এটা গ্লোবাল ইস্যুই। কি হলিউড, কি বলিউড, মেয়েদের রাখা হয় ছবির সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্যই। আমার অনেক দেশের ফিল্ম ডিরেক্টরের সঙ্গেই পরিচয় আছে। তারাই বা সংখ্যায় কত! কয়টা ফিমেল ডিরেক্টর অস্কার বা কান পেয়েছে! মেয়েদের ফিল্মে অবস্থান তো কেবল অভিনেত্রী হিসেবেই।

r4

কীভাবে সম্পূর্ণরুপে Women empowerment প্রতিষ্ঠিত হবে?

মেয়েদের ভীষণ consciously কাজ করতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ের মধ্যে অনেক ইমব্যাল্যান্স আছে, তা নিজেদেরকেই দূর করতে হবে। ছেলেরা এসে তো এটা করে দিবে না। নিজেদেরকেই সচেতন হতে হবে! কেউ তো জোর করে কাজ করিয়ে দিতে পারে না! নিজেদেরকে আগ্রহী হতে হবে, প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে।

 

নারীমুক্তি আপনার কাছে কি?

কোন স্পেসিফিক সংজ্ঞা নেই। কারও কাছে হয়ত আছে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি, খুব ছোটবেলা থেকেই আমাদের মধ্যে মেয়েদের একটা চরিত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। মেয়েকে সুন্দর হতে হবে, সুন্দর জামাকাপড় পড়তে হবে, গয়না পড়তে হবে। আমার বন্ধুর তিনবছরের ছেলে টিপ পড়ে, লিপিস্টিক দেয়, ও কিন্তু বুঝে না ছেলে মেয়ে কি। ওকে তখন বলা হয় “ তুমি ছেলে হয়ে টিপ পড়বে না, এটা মেয়েদের জিনিস”। এইগুলো আসলে সোশ্যাল কালচার মিথ। বিয়ে হলে বাচ্চা নেওয়া, সংসার করা! এইসবও মিথ! আমি কি হতে চাই, সেটা বিষয়ে ক্লিয়ার থাকাটাই নারীমুক্তি। কেউ যেন জোর করে কোন মতামত আমার উপর না চাপায়। আসলে একটা হিউম্যান বিয়িং হয়ে উঠাটাই তো স্ট্রাগল আমাদের। বেগম রোকেয়ার বড় বোন খুব মেধাবী ছিলেন, বিয়ের পর পড়তে পারেননি। তখন রোকেয়া বলেছিলেন, হিউম্যান পটেনশিয়ালিটির কি মারত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এই হিউম্যান পটেনশিয়ালিটি যেন নষ্ট না হয়, সম্পূর্ণ কাজে লাগে, সেটাই একমাত্র নারীমুক্তির মূলমন্ত্র।

r1

নেক্সট কাজও কি নারীদের নিয়েই হবে?

হ্যাঁ, নারী ইস্যু নিয়েই হবে। স্ক্রিপ্ট লিখছি এখন। আমার কিন্তু পড়াশুনার জায়গাটাও ওমেন স্টাডিজ। আমার ভার্সিটি থেকে প্রচুর পরিমাণ ওয়ার্ল্ড ক্লাস ফেমিনিস্ট বের হয়েছেন। আমি ছিলাম ভিকারুন্নেসার স্টুডেন্ট, বাড়িতে ছিলাম আমরা দুই বোন, ১৮ বছর বয়সে আমেরিকাতে পড়তে যাই, সেখানে আমি সম্পূর্ণ এক জীবন যাপন করি। আমার জীবনটাই কেটেছে একটা মেয়েময় পরিবেশে, পড়াশুনার ক্ষেত্রটাও তাই ছিল। তাই নারীদের নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এই ব্যাপারগুলো ভীষণ ইমপ্যাক্ট ফেলে। আমি নারীদের নিয়ে কাজ করতেও তাই খুব কমফোরট ফিল করি।

অনেক শুভকামনা আন্ডার কন্সট্রাকশনের জন্য, এবং খুব শীঘ্রই নতুন ছবি দেখতে চাই।

আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

বেশির ভাগ সময় ঘুষ চায় বর্ডারের লোকেরা

মেয়েটা চকোলেট খেতে খুব পছন্দ করত। কিন্তু চাইলেই তো আর চকোলেট রাত-বিরাতে পাওয়া যায় না! হুট করে মাথায় ক্লিক করল “ কেমন হয় একটা চকোলেটের অনলাইন শপ থাকলে”। যেই ভাবা সেই কাজ ! খুলে ফেলল চকোলেট ওয়ার্ল্ড নামে অনলাইন শপটি। মাত্র এক বছর হতে না হতেই দুর্দান্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বিজনেস, প্রচুর প্রচুর অর্ডার পাচ্ছে । চকোলেট ওয়ার্ল্ডের সেই পেছনের চকোলেট পছন্দ করা মিষ্টি মেয়ে প্রিয়াঙ্কা ইসলামের সঙ্গে ফেমিনিজমবাংলার আড্ডায় উঠে এলো চকোলেট বিজনেস নিয়ে যত কথা।

চকোলেট নিয়ে অনলাইন বিজনেস !!! কেন ?

চকলেট আমার খুব খুব খুউব প্রিয় একটা জিনিস। কেউ যদি বলত ভাতের বদলে চকলেট খান !!! যাই হোক, কাজের চাপে আর সময়ের অভাবে দোকানে যাওয়া হয়না, কিন্তু মনে মনে খুব ইচ্ছে করে কেউ যদি বাসায়/অফিসে চকলেট দিয়ে যেতো ! এই ভাবা থেকেই বিজনেস কন্সেপ্টটা মাথায় আসে।। যখন চাইবে তখন। রাত ১২টায় প্রিয় মানুষকে দিবেন? ওকে কল , ‘আস’ । জিএফ রাগ, এক্ষুনি চকলেট দিতে হবে ! কল “আস”।আমি শুরু করেছিলাম ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৫ তে।

কোন নির্দিষ্ট দোকান থেকে কিনেন ? নাকি ঘুরে ঘুরে যেটা পছন্দ হয় ?

নির্দিষ্ট কোন দোকান থেকে প্রথমে কিনি নাই। ঘুরে ঘুরে কিনেছিলাম, ভারতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। কোলকাতা থেকে চকলেট কিনে এনেছিলাম। এখন কিছু ফিক্সড শপ আছে। ওদের বলে দিলে পাঠিয়ে দেয় আমাকে। আমার বর্ডার থেকে ট্যাক্স পে করে ছাড়িয়ে আনতে হয়। এই কাজটা আমি আর আমার এক বন্ধু মিলে করি, একা যাওয়া পসিবল হয়না ।

choco

বিদেশী চকলেটের চাহিদা কি বেশী ? এটা কি খারাপ লাগে না, দেশি চকোলেট এখনও ওই মানের হয় নি ?

বিদেশী চকলেটের চাহিদাই বেশি। এর মধ্যে ইউকে, সুইডেন, আমেরিকা, থাইল্যান্ড, মালেশিয়া ও দুবাই এর চকলেট বেশি চায় মানুষ। এমনকি ভারতীয় চকলেটের চাহিদাও কম। খারাপ লাগে। খুব খারাপ লাগে। কতগুলো টাকা দিয়ে চকলেট আনি, ট্যাক্স দেই, অথচ চাইলেই এইমানের চকলেট বানানো যায় একটু চেষ্টা করলেই।

পার্থক্য কি ? দোকান থেকে কেনা আর অনলাইন শপ থেকে কেনা ?

অনলাইনে সুবিধা হলো ঘরে বসেই পছন্দের চকলেটটি পাওয়া যাবে যে কোন টাইমে। আর দাম নালাগের মাঝেই। কিছু চকলেট এর দাম মার্কেট প্রাইজের চেয়ে কমেই দেই। যেমন সিল্ক। এইটা বাইরে মুদি দোকানেই ২৮০। সুপার শপে ৩২০/৩৫০ করে। আমি দিচ্ছি ২৫০ টাকাতে । স্নিকার্স ৫০টাকা করে, বাইরে ট্যাগ লাগিয়ে ৬০টাকায় বিক্রি হয়। এইতো, এই জন্য অনেক ক্লায়েন্ট বাঁধা হয়ে গেছে আমার। দোকান থেকে না কিনে আমাকেই অর্ডার করে।

ডেলিভারি চার্জ কেমন ঢাকা আর ঢাকার বাইরে ?

আমার বাসা মিরপুরে, তাই মিরপুরে ফ্রী হোম ডেলিভ্যারী দেই, পিক আপ পয়েন্ট ও মিরপুরে। এছাড়া ঢাকা এর মধ্যে ৬০টাকা, ঢাকা এর বাইরে ১০০টাকা কুরিয়ার ফি ।

choco 1

 

কোন ফ্রেন্ডকে সারপ্রাইজ দিতে চাইলে সে বাসায় কি পৌঁছে যায় চকলেট ?

সারপ্রাইজই বেশি দেয়া হয়। রাত ১২টায় জন্মদিনের, এনিভার্সারির ডেলিভ্যারী খুব হয়। সরাসরি পৌঁছে দেই আমরা, ক্লায়েন্ট বিকাশে পে করে দেয়। বিদেশ থেকেও অর্ডার আসে। ওনারা মানিগ্রাম এর মাধ্যমে টাকা পাঠায়, আমরা তাদের গিফট পৌঁছে দেই। নরমাল ব্যাগ আছে আমাদের, ওইগুলাতে দিলে কোন প্যাকিং চার্জ নেই। কিন্তু অনেকে ডালা সাজিয়ে ডেকোরেট করে দিতে বলে, সেক্ষেত্রে সাজানো অনুযায়ী দাম হয়। ২০০/৩০০ এমন।

বিজনেস করে কি মনে হচ্ছে অনলাইন শপের সঙ্গে কি দেশের মানুষ অভ্যস্ত ?

বিজনেস করে মনে হচ্ছে আমাদের মানুষ অবশ্যই অনলাইন শপের সাথে যুক্ত। নাহলে এতো ছোট একটা জিনিস এইখান থেকে কিনতো না ।

ফ্যামিলি আর বন্ধুদের সাপোর্ট কেমন ? কিরকম বাঁধা ফেস করেছেন ?

ফ্যামিলি আর বন্ধুদের সাপোর্ট অনেক বেশি। এই সাপোর্ট না পেলে আমার পক্ষে সম্ভব হতো। একজনের কথা উল্লেখ করতে চাই, সোহেল। ও যত ঝামেলাই হোক না কেনো রাতের ডেলিভারি গুলো করে দিয়েছে যা আমার পক্ষে পসিবল ছিলোনা।

choco 2

 

কিরকম বাঁধা ফেস করেছেন ?

বাঁধা মেইনলি আসে বর্ডার থেকে প্রোডাক্ট ছাড়ানোর সময়। বেশির ভাগ সময় ঘুষ চায় বর্ডারের লোকেরা, ট্যাক্স দিয়ে আনার পরও আটকে রাখে, ইচ্ছে করে ঘাটাঘাটি করে। অনেক চকলেট নষ্ট হয়ে যায়। এত্তো ঘাটায় তারা।

 

কাস্টমারদের নেগেটিভ ফিডব্যাক কি মন খারাপ করিয়ে দেয় ? পেয়েছেন এরকম কিছু ?

খুব মন খারাপ হয়। কেউ কেউ বলে দাম বেশি। চোরাই পথে আসা চকলেট গুলো যেগুলোর ডেট থাকে সে গুলোর সাথে আমার চকলেট গুলোর তুলনা দেয়। অথচ আমি আনি সব নতুন প্রোডাক্ট ১/২ বছর ভ্যালিড ডেট, সাথে ট্যাক্স। এইটা বুঝেনা। খুব বেশি নেগেটিভ ফিডব্যাক পাইনি এখনও।

আইডিয়া থাকতে অনেকেই সাহস করেনা উদ্যোক্তা হতে ? নারী উদ্যোক্তাদেরকে সেই বিষয়ে কিছু কথা

আমি সবার উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলতে চাই, একটু সাহস।  খালি একটু সাহসের প্রয়োজন। কত কত জিনিস আছে যেগুলো নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়া যায়, শুধু আপনার এক পা আগানো বাকি। নিজের একটা জগত হয়ে যায়, কত মানুষ আপন হয়ে যায়। জীবনের একটা অংশ হয়ে যায়। আইডিয়া গুলো কাজে লাগান। এখনি সময়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনলাইন বিজনেস নিয়ে ? কোন আউটলেট করার ইচ্ছা আছে ?

বড় হতে চাই একটু একটু করে। অনলাইনে সুপার শপ করতে চাই। সব থাকবে হাতের নাগালে। আর আউটলেট এর জন্য টাকা জমাচ্ছি।যে কোন সময় শুরু করে দিবো চকলেটের একটা দোকান ।

চকোলেট ওয়ার্ল্ডের ফেসবুক লিংকঃ https://www.facebook.com/chocolateworldsp/?__mref=message_bubble

 

হুটহাট দেশীয় পণ্যের প্রতি আমার ভালবাসা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকগুণে

মেয়ে নেটওয়ার্কের ব্যবসায়িক শাখা হুটহাট গ্রুপ। এই গ্রুপের একজন অন্যতম উদ্যোক্তা তিনি। তারও বাইরে একজন নারী উদ্যোক্তা। বলছি সাবরিনা আপুর কথা। সংসারকে সামলে, নিজের শখকে প্রায়োরিটি দিয়ে গড়ে তুলেছে অনলাইন শপ তন্তু। দেশীয় কাপড় নিয়ে কাজ করার মধ্যে একটা আলাদা তৃপ্তি আছে। সেই তৃপ্তির গল্প আর হুটহাট গ্রুপের গল্প শুনতেই সাবরিনা আপুর মুখোমুখি ফেমিনিজমবাংলা।

তন্তু মানে সুতা, আপনার অনলাইন বিজনেস কি সুতা নিয়েই ?

জি, তন্তু মানে সুতো। তবে আমার অনলাইন ব্যবসা শুধু সুতো নিয়েই নয়, বরং দেশীয় কাপড় এবং পোশাক নিয়ে। আরও ভেঙ্গে বলতে গেলে শুরুটা মুলত জামদানী নিয়ে, তবে সামনে যশোর স্টিচ, রাজশাহীর সিল্ক নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা আছে সামনে। মজার বিষয় হল ব্যবসার জন্য প্রথম যেটুকু সঞ্চয় ইনভেস্ট করেছিলাম তা ছিল সুতোর উপরে। সেখান থেকেই তন্তুজ (তন্তু থেকে শুরু, তাই তন্তুজ) নামটা মনে ধরেছিল। পরবর্তীতে কিছুটা পরিবর্তন করে আমাদের ব্র্যান্ডের নাম হিসেবে ‘তন্তু’ final করা হয়।

উদ্যোক্তার শুরুর গল্প জানতে চাই !

শুরুটা কিন্তু একদিনে হয়নি। উদ্যোক্তা হব এমন ভাবনাচিন্তা প্রকটভাবে না থাকলেও মনের গহীনে ‘নিজের কিছু হলে ভাল হত’ এরকম একটা ধারনা কিন্তু উঁকি দিত মাঝেমাঝেই। নিজের পোশাক নিজেই ডিজাইন করে পরেছি সবসময়। এক সময় চাকরি করতে শুরু করি। সে সময়েই মূলত নিজের কিছু করতে হবে এবং সেটা আমার পছন্দের ‘জামদানী’ নিয়েই করতে হবে এমন ধারনা মনে চেপে বসে। সেই থেকে ধীরে ধীরে তন্তুকে মনে মনে আকার দিতে থাকি। কিভাবে কি করতে চাই তা ঠিক হয়ে গেলে জামদানীর উপরে রিসার্চ করা শুরু করি। তন্তুর অফিশিয়াল লঞ্চের আগে প্রায় ৬ মাস শুধু দেশীয় কাপড় এবং সুতো নিয়েই পড়াশোনা, রিসার্চ করেছি। বিশেষ করে জামদানী সুতো এবং জামদানী শাড়ির পেছনেই প্রায় মাস তিনেক ব্যয় করেছি। এরপরে তাতিপাড়ায় যাতায়াত করে এবং শাড়ির সুতো, বুনন ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে এবং নিজের প্ল্যান অনুযায়ী কাজ গুছিয়ে নিয়ে শুরু করি তন্তুর আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

tontu 2

বাঁধা-বিপত্তি কেরকম দেখেছেন একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ?

তন্তুর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়ে বেশি দিন হয়নি। একবার তন্তু শুরু হবার পরে এখন পর্যন্ত তেমন কোন বাঁধার সম্মুখীন হইনি আসলে। তবে রিসার্চ করার সময় এবং ইনিশিয়াল স্টেজে নারী হবার কারণে অনেকক্ষেত্রেই বাঁধার সম্মুখীন হয়েছি। শাড়ি চেনার জন্য, সুতোর জন্য তাতিপাড়ায় ঘুরতে হয়েছে, কথা বলতে হয়েছে। তখন অনেকেই এগুলো করতে মানা করেছেন। সব চাইতে বেশি শুনতে হয়েছে যে কথা সেটা হল, শখের পিছে এত শ্রম কেন দেয়া। তন্তু যে আমার শুধু শখ নয় বরং এটা আমার কর্মক্ষেত্র, আমার এগিয়ে চলার প্রেরণা; সেই বিষয় বোঝাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে আমাকে। তাছাড়া, আমার কাজের গুরুত্মও দিতে চায়নি অনেকে প্রথমদিকে। আবার অনেককে এটাও বলতে শুনেছি যে কি এমন প্রয়োজন পড়ল এসব কাজ করার। আমি যে প্রয়োজনে কাজ করছিনা, নিজের ক্যারিয়ার, নিজের উদ্যোগ দাঁড়া করানোর চেষ্টা করছি সেটা তন্তুর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবার পরে এবং সবার কাছে থেকে সাড়া পাবার পরে বোঝাতে পেরেছি তাদের। এছাড়া নারী হবার কারণে পণ্যের গুণগত মান এবং মূল্য সম্পর্কিত ধারণা কম থাকবে আমার এমন ধারণা পোষণ করতে দেখেছি অনেককে। অনেকেই চেষ্টা করেছেন ঠকাতে, তবে আমি ঝোঁকের বশে ব্যবসা করতে আসিনি এটা বুঝতে পেরে সরে গেছেন তারা।

 

কেন তন্তু ? অন্য কিছু নিয়ে অনলাইন বিজনেস না কেন ?

“তন্তু” কারণ ঐযে বললাম না ঝোঁকের বশে বা ট্রেন্ড দেখে ব্যবসা করতে আসিনি আমি। তন্তু আমার কাছে প্রেরণার আরেক নাম। এখানে আমরা যেসব শাড়ি এনেছি সেগুলো আমার এবং কারিগরের নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি। এখানে বলে রাখি আমরা বলতে আমি এবং শাহারিয়ার ইসলাম। উনি তন্তুর ফাইন্যান্সিয়াল পার্টনার এবং আমার জীবনসঙ্গী এবং পেশায় একজন পুরদস্তুর ব্যাংকার। এখন অন্য আর সকল অনলাইন ব্যবসার মত একটা পেইজ খুলে ব্যবসা করতে নামলে নিজের আইডিয়া এবং ডিজাইন প্রকাশ করতে পারতাম না আমি যে সুযোগ তন্তুর কারণে পেয়েছি আমি। এছাড়া দেশীয় কাপড়ের যে বিশাল সমারহ আমাদের দেশে আছে সেগুলোর প্রতি গ্রাহকদের আকৃষ্ট করাও অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আমাদের।

তন্তু অন্যান্য অনলাইন ক্লথিং সেন্টারের চাইতে কেন আলাদা ?

তন্তু আসলে সেভাবে বলতে গেলে শুধুমাত্র কোন ক্লোথিং সেন্টার নয়। আমি তন্তুকে একটা ব্র্যান্ড হিসেবে কল্পনা করি এবং সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। আমি নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক তৈরি করে এবং শাড়ি বানিয়ে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেবার চেষ্টা করি। সে হিসেবে আমাদের অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা বলা যায়। এছাড়া তন্তু শুধুমাত্র দেশীয় পোশাক, কাপড় এবং সুতো নিয়েই কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা বজায় রাখতে চায়। এভাবে চিন্তা করলেও তন্তুকে অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা ভাবা যেতে পারে, নয় কি? তবে সত্যি বলতে দেশি পোশাক, কাপড় নিয়ে কাজ করেন যারা তাদের সহযাত্রী হতে পেরে তন্তু এবং আমরা খুবি আনন্দিত এবং গর্বিত।

tontu 3

পুঁজি কেমন ছিল?

তন্তুর জন্য প্রথম যেটুকু পুঁজি আমরা ইনভেস্ট করেছিলাম তা ছিল মাত্র ষোলো হাজার টাকা। এটুকু দিয়েই তন্তুর যাত্রা শুরু করি।

নিজের কারিগর আছে, নিজের ডিজাইনে কাপড় বানান নাকি কাপড় কিনে আনেন ঘুরে ঘুরে ?

আমাদের নিজস্ব কারিগর আছে। তন্তুর জামদানী শাড়ি তৈরির তাতি আছে যার সাথে মিলে আমরা ডিজাইন করে শাড়ি তৈরি করি। আমাদের সব জামদানী শাড়ি আমাদের কারিগরের নিজের তাতে বোনা, বাজার ঘুরে কিনে আনা নয়। এছাড়া অন্যান্য দেশীয় কাপড় যা কিনতে হয়, তা এখনো ঘুরে ঘুরে কিনে আনি আমরা।

ফিডব্যাক খারাপ আসলে মন খারাপ হয় ?

সত্যি বলতে এখন পর্যন্ত সেরকম খারাপ কোন ফিডব্যাক পাইনি। আমার গ্রাহকরা বেশ ভাল এবং সাপোর্টিভ। হ্যা, এমন হয়েছে এক দুইজন শাড়ির ডিজাইন পছন্দ হয়নি এমন মন্তব্য করেছেন। সেগুলো নিয়ে আসলে মন খারাপ হয়নি। বরং তাদের কথাগুলো মাথায় রেখেছি নতুন কালেকশন তৈরি করার সময়ে। আশা করছি, এরপরে তাদের যেটুকু অভিযোগ ছিল সেটা দূর হয়েছে কালেকশন দেখে।

baby

পরিবার, সংসার , বিজনেস কীভাবে ম্যানেজ করেন, সহযোগিতা পান ?

পরিবার থেকে অনেক সাপোর্ট পাই। আমার বাবা- বোন এবং শ্বশুরবাড়ি দুই পরিবারই খুব সাপর্ট করেছে আমার উদ্যোগটিকে। তাদের সহযোগিতা না পেলে এত কষ্ট করে তন্তু শুরু করতে পারতাম না হয়ত। সংসারের কথা বলতে গেলে বলব, সংসার আসলে দুই চাকার গাড়ির মত। দুইজন effort না দিলে সুন্দরভাবে সংসার চালানো বেশ কষ্ট। এই দিকে আমি বেশ ভাল অবস্থানে আছি বলা যায়। সংসার সামলানোর জন্য আমার করনীয়টুকু করলেই যথেষ্ট ছিল সব সময়। বাকিটা শাহারিয়ার করেছেন। আবার অনেক সময় এমন হয়েছে তন্তুর কাজে আমরা দুইজনেই ব্যস্ত তখন পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে সংসারের সব দায়িত্ব সামলে নিয়েছেন। যেমন- হয়ত তন্তুর কাজে আমাদের ঢাকার বাইরে থাকতে হবে সারাদিন, তখন পরিবারের সব সদস্যরা পালা করে আমার বাচ্চাদের দেখে রেখেছেন, যত্নআত্তি করেছেন। আমাকে সেসব নিয়ে চিন্তাও করতে হয়নি। তন্তুর পিছে যদি আমাদের শ্রম থাকে তবে পরিবারের সহযোগিতাও আছে ষোলো আনা। এ জন্য আমি তাদের প্রতি সব সময় কৃতজ্ঞ থাকব।

tontu 4

হুটহাট অ্যাডমিন হিসেবে নারী উদ্যোক্তার এই হাটে থেকে নিজের কোন বোধদয় বা অনুভূতি ?

“হুটহাট” হল “মেয়ে নেটওয়ার্কের” অন্তর্গত পণ্য কেনাবেচার জন্য গড়ে ওঠা চমৎকার একটি ফেসবুক গ্রুপ। হুটহাট মেয়ে নেটওয়ার্কের গ্রুপ হলেও শুধুমাত্র মেয়েদের গ্রুপ কিন্তু নয়। সকল ধরনের দেশীয় পণ্যের উদ্যোক্তা, বিক্রেতা এবং গ্রাহকদের গ্রুপ হুটহাট। হুটহাটে আরো একজন অ্যাডমিন আছেন, তিনি হলেন তৃষিয়া নাশতারান। উনাকে ছাড়া হুটহাট অসম্পুর্ন। নারী উদ্যোক্তা এবং দেশীয় পণ্যের উদ্যোক্তাদের জন্য হুটহাট আজ যে নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে তার পেছনে তৃষিয়া নাশতারানের অবদান অনেক। আমি হুটহাটের অ্যাডমিন হিসেবে শুধু নয়; একজন সদস্য, গ্রাহক এবং একজন বিক্রেতা হিসেবে বলতে চাই হুটহাট দেশীয় পণ্যের প্রতি আমার ভালবাসা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকগুণে। হুটহাটে যারা আছেন তাদের প্রায় সবার নিজস্ব ডিজাইন ও পণ্য দেখে আমি অভিভূত। এক একজন উদ্যোক্তার innovation power আমাকে আমার কাজের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলে। এছাড়া শুধুমাত্র competition নয়, বরং পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও ভালভাবে কাজ করা সম্ভব এটা আমি হুটহাটে এসেই দেখেছি। তন্তুর পেছনে হুটহাটের নারী উদ্যোক্তা রোকসানা রশীদ, রুমানা শারমিনদের অবদান কম নয়। এছাড়া ফোয়ারা ফেরদৌস, শাওন রেজাদের কাছে থেকে ভাল কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই আমি সব সময়।

ফেসবুক লিংকঃ https://www.facebook.com/tantufied/?fref=ts

 

মা বোনেরা যেন নিশ্চিন্তে অন্তর্বাস কিনতে পারে

মেয়েদের অন্তর্বাস কেনা একটি সেনসিটিভ ইস্যু। বহু মেয়েই দোকানে গিয়ে দেখে শুনে নিজের জন্য অন্তর্বাস কিনতে লজ্জা পায়, সংকোচবোধ করে। অনেক দোকানদারও সেই সংকোচের সুযোগ নেয়। এই সংকট দূর করতেই তিন বন্ধুর পথচলা  গোপনজিনিস ডট কম  নামক ওয়েবসাইটের। আশ্চর্যের বিষয় যে দেশের একাংশ ছেলেরা মেয়েদের রাস্তায় নোংরা খিস্তি ছুড়ে মারে, তাদের দেখলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে ,সেই দেশেরই তিন তরুণ কাজ করে যাচ্ছে মেয়েদের গোপন পোশাক নিয়ে, মেয়েদের রক্ষা করে যাচ্ছে দৈনন্দিন লজ্জা আর সংকোচ থেকে।

এই তিনবন্ধুর পক্ষ থেকে গোপনজিনিষ ডট কমের প্রধান আবদুল্লাহ আল ইমরান ভাইয়ের সঙ্গে আড্ডা ফেমিনিজমবাংলা র । নতুন বছরে এই তিন তরুণের অসাধারণ কাজকে সম্মান জানিয়ে ফেমিনিজমবাংলার পক্ষ থেকে তাদের অশেষ ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

ফেসবুক পেইজঃ https://www.facebook.com/goponjinish/

গোপনজিনিষ ডট কমের শুরুর গল্প ?

আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল ফিমেল বেসড প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়া। মেয়েরা এইসব পোশাক বাজারে কিনতে লজ্জা পায়, বিক্রেতা পুরুষ বলে ঠিকমত কমিউনিকেট করতে পারে না । এইসব চিন্তা করেই গোপনজিনিষের শুরু। এখানে প্রচণ্ড ভাবে প্রাইভেসি মেইনটেইন করা হয়।

কজন মিলে শুরু ?

আমরা তিনজন উদ্যোক্তা। আমাদের মাদার কোম্পানি হচ্ছে Nascenia Ltd। এটি একটি সফটওয়্যার কোম্পানি। এটারই একটা উইংস হচ্ছে গোপনজিনিষ ডট কম। আমরা তিনজনই পুরুষ। কিন্তু ফিমেল বেসড প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করার কথা চিন্তা করেছি। আমি আবদুল্লাহ আল ইমরান, গোপনজিনিষের প্রধানে আছি।

g1
যাত্রা শুরু?

২০১৩ সালে।

প্রথমদিকে রেস্পন্স কেমন?

অবিশ্বাস্য এই যে আমরা নেগেটিভ রেস্পন্স পাই নি। খুবই পজিটিভ রেস্পন্স পেয়েছি। খুব চিন্তা ছিল, রেস্পন্স যদি স্লো হয়, সহজে একসেপ্ট যদি না করে মানুষ, শেয়ার যদি না হয়! কিন্তু আমাদের প্রথম থেকেই কাস্টমারদের সাড়া ছিল বিশাল। আমাদের আশার মাত্রা ছাড়িয়ে দিয়েছে।

শুধুই কি মেয়েদের প্রোডাক্ট পাওয়া যায় ?

৪০% ফিমেল বেসড প্রোডাক্ট। ফিমেল এবং মেল বেসড প্রোডাক্টের অনুপাত করতে বললে দাঁড়াবে ৭:৩।

আচ্ছা প্রোডাক্ট কেনার ব্যাপারে কি মেয়েরাই মেয়েদের সাথে কথা বলে ?

দেখুন, আমাদের কাস্টমার কেয়ারে মেইল , ফিমেল, দুজনই আছেন। মেয়েরা ফোন দিলে আমাদের ফিমেইল কাস্টমাররাই ডিল করেন। মোদ্দা কথা, নারী কাস্টমাররা নিশ্চিন্তে, স্বস্তিতে এখান থেকে প্রোডাক্ট কিনতে পারে।

g2
বাস্তবে আমরা যখন কিনি, অনেক যাচাই বাচাই করে কিনে , বিশেষ করে সাইজ !

প্রোডাক্ট ওয়েবসাইটে আপলোড হয় সাইজ উল্লেখ করে। মেয়েরা একুরেট সাইজ যেটা বলে, সেটাই দেবার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এরপরেও সাইজ রিলেটেড প্রব্লেম থাকলে, এক্সচেঞ্জ করার জায়গা থাকে।

পরিবারের সাপোর্ট কেমন ?

আসলে মা , বাবা, ভাইবোন, স্ত্রীর সাপোর্ট না থাকলে এই কাজ করে যাওয়া সম্ভব হত না। আমাদের মা বোনরা, যেন অন্তর্বাস কিনতে গিয়ে সমস্যা ফেস না করে সেইজন্যই আমাদের নিরন্তর এই প্রচেষ্টা।

আচ্ছা ফেসবুক পেইজে খারাপ কমেন্ট এলে?
পেইজ থেকে সোজা ব্যান করে দেই। ফিমেল বেসড প্রোডাক্ট ছাড়ছি, প্রাইভেসি দেবার জায়গা যেহেতু নেই একটা জিনিষ মাথায় রাখি, কোন আনইথিক্যাল প্রোডাক্ট দেই না, বাজে পাবলিসিটি করি না, উইথআউট পারমিশন মডেলের ছবি দেই না ।

তবুও চেষ্টা করি, ন্যুডিটি পিক এভয়েড করার। যতটুকু প্রোডাক্টের জন্য দিতে হয়, ততটুকুই।

কেমন ডেলিভারি চার্জ আপনাদের ?

অল ওভার বাংলাদেশ মাত্র ৩৫ টাকা।

আপনাদের একটিভিটি ভীষণ ভাল

হ্যাঁ আপনিও দেখেছেন, নক করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমরা রেসপন্স দেই।

g3
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ?

দেশের একদম প্রথম দিকের সাইট এটি। এ বিষয়ক দেশীয় কোম্পানির সাইট ছিলই না তখন। স্টাফের পরিমাণ বাড়ছে, অর্ডার বাড়ছে, ধরে রাখতে চাই।

g4
তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে

তরুণদের উদ্যোক্তা হবার জন্য মোস্ট ওয়েলকাম। পুঁজি কিছু রাখতেই হবে। তবে সবচেয়ে বেশী যেটা দরকার ধৈর্য রাখা। প্রথম দিকে আউটপুট আশানুরূপ হবে না, কিন্তু তখন ফ্রাস্ট্রেট হলে চলবে না একদম। টার্গেট কাস্টমার পেতে অনেক অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন।

রিস্ক ফ্যাক্টর মাথায় রেখেই পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করা উচিৎ

এমন একটা সময়ে তাঁতের শাড়ি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তখন ফেসবুকে ছিল ইন্ডিয়ান আর পাকিস্তানি পোশাকের রমরমা। সুইটপটেটোর যাত্রা তাই যতটা না ছিল ব্যবসায়িক, তার চাইতেও বেশী সামাজিক দায়বদ্ধতার। আজ দেড় বছর পর সেই সুইটপটেটো নিজ দেশের মানুষের পাশাপাশি প্রবাসী বাঙালি এমনকি ভিনদেশীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে সেই অসাধারণ রঙ এবং ডিজাইনের আরামদায়ক তাঁতের শাড়ি। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী বলেই হয়ত সৃজনশীলতার প্রতি ঝোঁক, সেই আগ্রহই টেনে এনেছে সৃজনশীল এই ব্যবসায়। ফেমিনিজমবাংলার সঙ্গে আড্ডায় উঠে এলো সুইটপটেটোর পিছনে স্বপ্ন ধারণ করা রোকসানা রশীদ আপুর কথা।

উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন কবে থেকে দেখা শুরু

ছোটবেলা থেকেই, আমি সব সময়ই চাইতাম ব্যবসায়ী হতে। মূলত আমার বাবার মত হতে চাইতাম, সেখান থেকেই ব্যবসায়ী হতে চাওয়া। বাবা বিমানবাহিনীতে ছিলেন, এরপর চাকুরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন। আমার জন্মের আগের কথা এগুলো, ছোটবেলা থেকেই এই গল্প আমার মাথায় গাঁথা ছিলো, আমিও ক্যারিয়ারের প্রথম আড়াই বছর চাকুরি করে, এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী।

আপি আপনার স্কুলিং, জব নিয়ে যদি একটু বলতেন ?

ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী ছিলাম, লেখক হতে চাইতাম। একটা বই প্রকাশিত হওয়ার পর লেখালেখিতে ইস্তফা। চাকরি করতাম একটা প্রোডাকশান হাউজে, বেশ কিছু আন্তর্জাতিক রিয়েলিটি শোয়ের ফ্রাঞ্চাইজি প্রতিষ্ঠান ছিলো, কাজ অনেক মজার ছিলো। এরপর সেই প্রতিষ্ঠানেরই অনলাইন নিউজ পোর্টালের ইনচার্য হিসাবে প্রোমোটেড হই। এর এক বছর পর শখ থেকে দেশি তাঁতের শাড়ির ব্যবসা শুরু করি, দেড় বছর আগে। শুরুতেই বেশ ভালো সাড়া পাই, ফলে ব্যবসাতেই থিতু হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আর এই কাজে আমি একেবারে আমার নিজেকে খুঁজে পাই, ফলে পুরা পরিকল্পনাই দেশজ আবহে সাজাই।

s2

সুইটপটেটোর যাত্রা শুরু কবে ? তাঁতের শাড়ি কি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি কিনেন নাকি নিজেই তাঁতের কাপড় কিনে কর্মীদের দিয়ে শাড়ি বানান?

সুইট পটেটো’র যাত্রা শুরু ২০১৪ এর এপ্রিল থেকে, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে। শাড়ি সরাসরি তাঁতিবাড়ি থেকে আসে। মূলত সবই তাঁতিদের ডিজাইন। আমাদের তাঁতিদের কাজ এতো অসাধারণ, এখানে নতুন করে কিছু যোগ করার প্রয়োজন পড়ে না। তবে অনেক সময় রঙ বা ডিজাইনের সাজেশান দিই। যেহেতু আমার নিজস্ব তাঁত নেই, অর্থাৎ কোন তাঁতির তাঁতই ভরসা, তাই আমি কোন শাড়ির ডিজাইন দিলেও সেটা নিজের বলে দাবী করতে পারি না, এখানে কপিরাইটের ঝামেলা আছে। এছাড়া বাল্ক অর্ডার থাকলে ডিজাইন দেখিয়ে বানিয়ে নিই শাড়ি, তবে বেসিক ডিজাইন তাঁতিরই থাকে। নিজে তাঁত না পাতলে কোনভাবেই সেই ডিজাইন নিজের বলে দাবী করা যায় না। আর আমাদের দেশে বংশানুক্রমিকভাবে তাঁত পাতা হয়, ফলে বাইরের কেও চাইলেই এর অংশ হতে পারে না, যদি না আড়ং বা এরকম কোন বড় প্রতিষ্ঠান না হয়।এর বাইরে নিজস্ব ডিজাইনের কিছু শাড়ি থাকে আমার কালেকশানে, যা আমি একটি শাড়ি একপিস করে বানাই, ওগুলো ব্লকের শাড়ি।

s3

সুইটপটেটোকে যদি অন্য কোন অনলাইন শপের চাইতে আলাদা করে ভাবতে চাই, তাহলে এর কোন গুণটি অনন্য ?

আমি আসলে তুলনায় যেতে চাই না। কারণ দেড় বছর আগে আমি যখন ব্যবসায় আসার পরিকল্পনা করি, তখন ফেসবুকে ভারতীয় আর পাকিস্তানি পোশাকের রমরমা অবস্থা ছিলো। যেদিকে তাকাই বিদেশী কাপড়ের বিজ্ঞাপন। চোখে পড়ার মত রুচিশীল দেশি শাড়ির কোন ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসায়িক পেইজ অন্তত আমার চোখে পড়েনি। আবার গত ছয় মাসে আমার মনে হয়েছে প্রায় প্রতিটা মানুষই তাঁতের শাড়ির ব্যবসা করছে। এটা অবশ্যই ভালো, দেশি পোশাকের ট্রেন্ড সেট হওয়ায় বিদেশী কাপড়ের প্রতি আসক্তি কিছুটা হলেও কমেছে মানুষের। কিন্তু এসবের মাঝে সুইট পটেটো কি আলাদা বা অনন্য এটা আমি বলার চেয়ে আমার ক্লায়েন্টরা বললেই ভালো দেখায়। কারণ আমি তো আসলেই জানিনা, আমি কি অন্যদের তুলনায় ভালো সার্ভিস দিতে পারছি কিনা, বা আলাদা কিনা। যারা কেনে, তারাই বলতে পারবেন।

তবে একটি বিষয়ে আমি অবশ্যই গর্বিত, তা হলো, আমি দেশে যেভাবে হোম ডেলিভারি দিই, ঠিক একইভাবে দেশের বাইরে হোম ডেলিভারি দিই, প্রবাসী ক্লায়েন্টরা কোন বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে দেশি তাঁতের শাড়ি পেয়ে যায়। এবং বরফের দেশগুলোতেও যেরকম চাহিদা আমাদের সুতি শাড়ির, আমি সত্যিই অবাক হই, দেশি কাপড়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা দেখে। এমনকি ভীনদেশি মানুষেরাও আমার কাছ থেকে তাঁতের শাড়ি কেনে, এই আনন্দ সহজ কথায় প্রকাশ করা যাবে না।

এই উদ্যোক্তা হবার পথে কোন কটূক্তি, “না না, হবে না “ এইরকম বাঁধা ফেস করেছেন ?

নাহ! শুরু থেকেই অনেক উৎসাহ পেয়েছি। ব্যবসার সূচনা হয় আমার হাজব্যান্ডের জমানো কিছু টাকা পুঁজি করে, আমরা দুইজনই ওউনার, আবার আমরাই কর্মী, এখনো এভাবেই কাজ চলছে। দুইজন মিলেই সব সামলাই। আমাদের দেশে একটা মেয়ে শাড়ির ব্যবসা করছে, এটার চেয়ে একটা পুরুষ শাড়ির ব্যবসা করলে বেশি সমালোচনার মুখে পড়ে। আমরা কোনরকম বাঁধা বিপত্তি, কটুক্তি কানেই তুলিনি। s5

পরিবার থেকে প্রচুর উৎসাহ পেয়েছি, বিশেষ করে আমার মায়ের ভূমিকা স্বীকার না করলেই না। বাবার কাছ থেকে মানসিক শক্তি, উৎসাহ সব সময়ই পেয়ে এসেছি। ‘শাড়ি বেচাওয়ালা’ ধরনের কথা একবারই একজন বলার চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু সে পাকা ছাগু হওয়ায় তার কথা ধরার প্রয়োজন মনে করিনি, কারণ এরা না বোঝে ঐতিহ্যা, না বোঝে রুচি। তাই হতাশ মানুষদের ঈর্ষা আমাদের চলার পথে কোন বাঁধাই সৃষ্টি করতে পারেনি।

 

 

 

আপি ভবিষ্যৎ সুইটপটেটো নিয়ে ?

যখন শুরু করি, আমার হাজব্যান্ডের স্বপ্ন ছিলো, দেশি তাঁতের হাতে বোনা শাড়ি আমরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবো। এখন দেড় বছর পর যখন পেছনে ফিরে তাকাই, দেখি সেই স্বপ্ন অনেকখানিই পূরণ হয়ে গেছে। এখন মসৃণভাবে একই গতিতে সামনে এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য, আপাতত বিশেষ কোন পরিকল্পনা নেই। এই যে রেমিটেন্সের যে টাকা আগে বিদেশী পোশাকে ব্যয় হতো, সেই টাকা এখন সরাসরি আমাদের দেশের তাঁতিরা পাচ্ছে, এই ধারাই সমানগতিতে চলতে থাকুক, এরচেয়ে বেশি আর কি চাওয়ার আছে?

s4

অনেক নারীর অনেক আইডিয়া আছে, পুঁজির অভাবে কিছু শুরু করতে পারে না , অনেকের সাহসেরও অভাব ! তাদের জন্য আপনার পরামর্শ।

পুঁজি ছাড়া ব্যবসা কখনোই সম্ভব না, অন্তত শুরু করলেও বেশিদূর আগানো যাবে না, প্লাস ফ্যামিলি থেকে ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট থাকা জরুরী। ব্যবসা শুরু করতে গেলে অন্তত এক বছর বসে খাওয়ার মত বন্দোবস্তও করে রাখতে হবে, কারণ আপনি তো জানেন না, আপনার ব্যবসা কি আপনাকে ওঠাবে, না ডোবাবে। আর এই দেশে সৎভাবে কিচ্ছু করা সম্ভব না, চোর ছ্যাচ্চোড়ে ভরা। কেঊ একটা ইউনিক আইডিয়া আনলেই সেইটার একশো কপি বের হয়ে যাবে। যে প্রথমে শুরু করবে সে সবচেয়ে বেশি বড় ধরাটা খাবে। তাই এসব রিস্ক ফ্যাক্টর মাথায় রেখেই পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করা উচিৎ। নাহয় সময়, রিসোর্স, এনার্জি সবকিছুরই অপচয় হবে।

সূইটপটেটোর ফেসবুক লিংকঃ https://www.facebook.com/sweetpotato.bd/?pnref=lhc

 

মরার আগে বাংলাদেশে আমি ৪ থেকে ৫ টাকার প্যাড করেই যাব

অপরাজেয় বাংলাদেশ পথশিশুদের নিয়ে কাজ করছে ৯৫ সাল থেকে। অপরাজেয় বাংলাদেশ এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ওয়াহিদা বানু আপু দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন মেয়েদের মাসিক সচেতনতার বিষয় নিয়ে। সেই কবে থেকে তিনি স্বপ্ন দেখছেন, মেয়েদের জন্য ৪-৫ টাকা প্যাডের। এতে করে সব শ্রেণীর মেয়েরা কিনতে পারে, প্যাড ব্যবহার করে জরায়ুমুখের বিভিন্ন মারত্মক রোগ বিষয়ক সচেতন হয়। তাঁর দীর্ঘদিন চিন্তার ফসল স্বরূপ আজ অপরাজেয় বাংলাদেশ এর মেয়েদেরকে নিজ হাতে প্যাড বানান শিখান হয়েছে, যার দাম পড়ে প্যাড প্রতি ৪ টাকা। দেশি-বিদেশী প্যাডগুলোর দাম যেখানে ১০০ টাকা, সেখানে এই প্যাডের ব্যবহারে দাম পড়বে ৪০ টাকা। মেয়েদের বানান এই স্যানিটারি ন্যাপকিন, তা বাণিজ্যকরণ নিয়ে ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা অপারজেয় বাংলাদেশের অফিসে বসে ওয়াহিদা আপুর মুখ থেকে শুনল ফেমিনিজমবাংলা।

আপু পিরিয়ড নিয়ে লড়াই

জান কি না জানি না, ৯৮ থেকে আমি মাসিকের বিষয় নিয়ে আছি। ৯৮ এ বন্যাতে রিলিফ অপারেশনে গেলাম। পানিতে সব ডুবে গেছে। ঘরে ঘরে যেতাম, মহিলাদের সাথে কথা বলতাম । “ খুব কষ্ট তাই না?” তারা বলত “ এমন অনেক কষ্ট আফা, মানুষকে কওয়া যায় না, রক্ত যাইতেছে, যাইতেছে, কাপড় শুকাতে পারি না। কাপড় বাইরে শুকালে স্বামী যদি দেখে অন্ধ হয়ে যাব , আয়ু কমে যাব তার । ওইসব ন্যাতা দিয়ে গ্রামের মানুষ তাবিজ করবে”। আমি তাজ্জব হয়ে যেতাম। বলতাম “ এটা তো আল্লাহ দিছে আপনারে, এটা না হলে মা হবেন না। এক মাস বন্ধ থাকলে স্বামী শ্বশুর বাড়ির মাথা খারাপ হবে। অথচ এই যে ভেজা কাপড় জড়ায় রাখছেন এতে তো রোগ হবে”। উনাদের কথা এই যে আমরা টাউনের মানুষ, বড় বড় কথা বলি। কিন্তু ওখানে সবাই যা মানে, বিশ্বাস করে তাই মানতে হবে, না মানলে তারা হবে উশৃঙ্খল।

wahida 2

তারপর?

এরপরএই আমি স্বপ্ন দেখতে লাগলাম যদি বাংলাদেশে ২ টাকা থেকে ৪ টাকার স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যায় এরা বেঁচে যাবে। সেই লক্ষে ইতালি এক ফ্রেন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তাঁরা ডোনার দিতে পারবে কিনা। তো ওদের TDH নামে একটি অর্গানাইজেশন বলল মেশিন দিবে, মেশিনের দাম ১৪ লক্ষ টাকা। ওদের সঙ্গে যেটা সমস্যা হল, ওই মেশিনে আমাদের দেশীয় পণ্য ব্যবহার করা যাবে না। ওই দেশ থেকে কাঁচামাল আনতে হলে আমার দাম বেশী পড়েই যাবে। তাই সময় এবং এনার্জির অপচয় করার মানে নেই। তাই সেটা বাদ দিলাম। এরপর অনেক জায়গায় আসলে চেয়েছি ডোনার। জাপানে ফান্ড রাইসেস এর জন্য গিয়েছি ওদের বলেছি মেশিন বানিয়ে দাও , স্যানিটারি প্যাড বানাব। শুনে সব পুরুষ হেসেছেও। ইন্ডিয়ান এক সায়েন্টিস্ট ভদ্রলোককে চিঠি দিলাম মেশিনের জন্য।

কোনটাই ক্লিক করছিল না ?

ক্লিক করছিল না তা না। দেখ ২০০৬ সালে চাইনিজরা আমার জন্য মেশিন বানাতে আগ্রহ হল। কয়েক দফা সিরিজ মিটিং হল। আমার প্ল্যানিং ছিল আমার দেশের ম্যাটেরিয়াল দিয়ে প্যাড বানাব। সারাদেশে গাদা গাদা ঝুট আছে সেগুলো সহজে রিসাইকেল করে র ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ব্যবহার করব। সেই ফ্যাক্টরিতে দেশের হাজার হাজার ছেলেমেয়ে কাজ করবে। তাদের মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছে যাবে । মেয়েরা, মায়েরা বুঝবে প্যাড ইউজ করার মজা, আরাম। এভাবেই cost effective প্রোডাক্ট আমরা পাব।

পরে ?

ওরা আমাকে দু তিনটা মেশিনের স্যাম্পলও দেখাল , যে কি কি রকমের স্যানিটারি ন্যাপকিন হতে পারে, আবার ওই মেশিন দিয়ে বাচ্চাদের ডায়াপারও তৈরি হতে পারে ।মেশিনের দাম ১ কোটি টাকা চাইল, ৬০ লাখ একবারে পেমেন্ট করতে হবে। টাকা প্রবলেম ছিল না, ছিল প্রতিদিন মাত্র ২৫০ টা স্যানিটারি ন্যাপকিন বানাতে পারব। অন্য শিফটে ডায়াপার বানাতে পারব। চারজন মানুষ লাগবে, সুইচ টিপলেই হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল, আমাদের দেশের ম্যাটেরিয়ালও ইউজ হবে না। তো আমি আর আগালাম না। এখনও ওরা মেইল করে, এই টাইপ মেশিন তৈরি করেছি । এই এই সুবিধা। কিন্তু প্রব্লেম ওই, আমার ড্রিমের সঙ্গে মেলে না ।

wahida 1

ড্রিম?

হ্যাঁ আমার প্যাড নিয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি স্বপ্ন হচ্ছে এটা একটা ফ্যাক্টরি হতে হবে, দেশীয় ঝুট ব্যবহার হবে কাঁচামাল হিসেবে, ছেলেমেয়ে কাজ করবে। কিন্তু সেগুলো সম্ভব হচ্ছিল না। ওদের মেশিন পিপল অরিয়েন্টেড ছিল না। তার উপর ওই মেশিন ব্যবহার করার জন্য ওদের একজন এক্সপার্ট লোককে রাখতে হবে, যাকে সারা বছর খাওয়া দাওয়া করাতে হবে। এভাবে কি করে cost meet up সম্ভব ?

দেশে এই ব্যাপার নিয়ে কি কোন সাহায্য পাচ্ছিলেন না ?

আমি BGME র এক প্রোগ্রামে গার্মেন্টসের মেয়েদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। তখন আমি বলেছিলাম ২৪ লক্ষ মেয়ে গার্মেন্টসে কাজ করে, তাদের প্রত্যেককে বেতনের পাশাপাশি স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হবে, ওই মেয়েরা তাদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের মাদের বলবে, এভাবে অন্য মেয়েরা জানবে। এক বছরেই আমাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন চলে যাবে ১ কোটি মেয়েদের কাছে । তো এই প্রোগ্রামের পর অনেকেই আমাকে বলেছে “ চলেন এই কনসেপ্ট নিয়ে আমরা আলাদা বিজনেস্ক করি”। কিন্তু আমি ব্যবসা করব না, সম্পূর্ণ সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি থেকে কাজটা করতে চাই। তাই নিজেই আমি ছয়জন পার্টনার ঠিক করি। বাজারে যেসব প্যাড আছে, তার স্যাম্পল নিয়ে এলো তারা, ওগুলোর দাম নিলাম, ক্যালকুলেশন করলাম। কোনটার প্যাকেটই ১০০ টাকার নিচে না, সব মেয়ের পক্ষে সেটা affordable ও না ।

অপরাজেয় বাংলাদেশ মেয়েদেরকে স্যানিটারি ন্যাপকিন বানানোর প্রশিক্ষণ ?

অপরাজেয় বাংলাদেশ পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে। আমরা এখানে প্রত্যেক শিশুকে রিপ্রডাক্টিভ হেলথ, এইচআইভি প্রভৃতি নিয়ে সেমিনার করি, ক্লাস করি, শিক্ষা দেই। বলি ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা পর পর প্যাড বদলানোর কথা। এরাই যখন মেইন্সট্রিম স্কুলে যায়, তখন নিজেরাই সে স্কুলে বাচ্চাদের এই বিষয়ে ধারণা দেয়, যেটা টিচাররা পর্যন্ত এড়িয়ে যায়। তো ওদের নিয়ে ২-৩টা ওয়ার্কশপ করলাম। কনসেপ্ট নোট করলাম, ড্রাফ্‌ট করলাম, দেখলাম ২০ টাকার নিচে হলেও এক প্যাকেট প্যাড সব ক্লাসের কাছে খুবই সহজলভ্য। তো এরপরই ওরা কাজে লেগে গেল। স্কুল থেকে ফিরে এসে ১ ঘণ্টা আনন্দ, গান , নাচ ,খেলাধুলা করে, এর পাশাপাশি আধা ঘণ্টা এক ঘণ্টা প্যাড বানানোর কাজ করে।

pad 2
মেয়েরা তুলা গজ দিয়ে প্যাড বানাচ্ছে

প্যাড তৈরিতে ওরা কি ব্যবহার করছে ?

তুলা গজ দিয়ে প্যাড বানাচ্ছে, সেলাই করছে চারপাশ, তারপর ইলাস্টিক লাগাচ্ছে।

প্রতি প্যাড বানাতে কেমন খরচ পড়ছে ?

প্রতি প্যাডে ৪ টাকা। তাহলে এক প্যাডে ১০ টা প্যাড থাকলে, এক প্যাকেটের দাম হয় ৪০ টাকা। ওরা শুধু এক শেপেরই বানাচ্ছে না। অভাল বানাচ্ছে, বড় , ছোট সব রকম নিজেদের প্রয়োজনে বানাচ্ছে।

 

নিজেরাই নিজেদের বানান প্যাড ইউজ করছে ?

আমি তাদেরকে সেলফিশ হতে মানা করেছি। তাই তারা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য প্যাড বানাচ্ছে। নিজেদের ড্রয়ার আছে আলাদা আলাদা প্রত্যেকের, সেখানে সেগুলো রেখে দিচ্ছে। যাতে প্যাডে তেলাপোকা, ইঁদুর বা অন্য ময়লা না পড়ে।

ছেলে মেয়ে সবাই প্যাড বানাচ্ছে ?

ওয়ার্কশপে ছেলে মেয়ে সবাই থাকে। কিন্তু প্যাড শুধু মেয়েরাই বানাচ্ছে, কিন্তু ছেলেরা সবই জানছে। কারণ এরাই পরে কারও বাবা, ভাই, বন্ধু হবে। সাইন্টিস্ট হবে। এরা নিজেরা আরও ভাববে, চিন্তা করবে, মা বোন কিংবা বন্ধুর জন্য আরও কত cost effective প্যাড বানান যায়।

pad 1
মেয়েদের বানান প্যাডের স্যাম্পল

বানান প্যাড কতটা স্বাস্থ্যসম্মত , যেহেতু হাতের ব্যবহার হচ্ছে, যন্ত্র ছাড়া?

নোংরা ভিজা কাপড় ইউজ করার থেকে ফ্রেশ তুলা গজের বানান প্যাড ৯৮% হাইজেনিক। তাছাড়া গাইনি ডাক্তারদের দিয়েও দেখান হয়েছে। তাঁরা এটাকে স্বাস্থ্যসম্মত বলে রেফার করেছ। দেখ মাত্র ১২% ইন্ডিয়ান প্যাড ইউজ করে। বাকিরা শুকনা পাতা, ভুষি কাপড়ে বেঁধে ইউজ করে। আমাদের দেশের এই মেয়েগুলো তাদের চাইতে অনেক বেশী স্বাস্থ্যসম্মত প্যাড ইউজ করছে। যেগুলো ইকো-ফ্রেন্ডলিও পাশাপাশি। সহজে মাটির সঙ্গেও মিশে যায়।

প্যাড নিয়ে সবার আগ্রহ?

আমার মেয়েগুলো ক্লাসে যাচ্ছে, ফ্রেন্ডদের বলছে, ওরা আগ্রহ পাচ্ছে। এখন এসে বলছে ওদের ফ্রেন্ডরাও প্যাড চায়। এভাবে ওই ফ্রেন্ডগুলোর পরিবারে আর মেয়েরা জানবে। সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াতে আমার কোন চিন্তা নেই। আমার অপরজেয় বাংলাদেশ এর মেয়েদের নিয়ে আমার যথেষ্ট ভরসা আছে, এরা একজন প্যাড বানান শিখে গিয়েছে, সেটা যদি সবার মাঝে সচেতনতা করতে বলা হয়, একটি এলাকার জন্য আমার এক মেয়েই যথেষ্ট।

11933480_121454194879798_7241603082824667865_n

বাণিজ্যকরণের কোন ভাবনা নেই ? দেশের সব মেয়েদের কাছে এই কম দামের প্যাড পৌঁছে দেওয়ার ?

আমি বলেছি অনেককে, এখন প্যাড বানান শিখে গেছি, আমাকে মেশিন দাও। আমার মেয়েরা আমাকে বুদ্ধি দেয়, আমরা যত তুলা এক প্যাডে ইউজ করি, তা দিয়ে দুইটি প্যাড ইউজ হয়। তারা নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজন মত, কতটুকু ব্লাড যায়, সেই অনুযায়ী ছোট বড় শেপের প্যাড ইউজ করে। অনেকের কাছে অফার পেয়েছি এক টন তুলা, বা এক টন ইলাস্টিক তারা কিনে দিতে প্রস্তুত। লটে যখন তুলা বা ইলাস্টিক কেনা হবে তখন প্যাডের দাম আরও কমে যাবে। মরার আগে বাংলাদেশে আমি ৪ থেকে ৫ টাকার প্যাড করেই যাব।

সবশেষে

লং টাইম ড্রিম আমার ৪-৫ টাকায় মেয়েরা এক প্যাকেট প্যাড পাবে। সবাই বলে এটা “ ওয়াহিদা আপার ব্রেইন চাইল্ড”। আমি চাই সব মেয়ে কি ভিক্ষুক, কি গার্মেন্টস কর্মী, কি গ্রামের মেয়ে সবার জন্য প্যাড cost effective হোক। সবাই যেন প্যাড কিনতে পারে, জরায়ুমুখের ক্যান্সার সহ ভ্যাজিনার আরও আরও রোগ নিয়ে যেন সচেতনতা তৈরি হয় সবার মাঝে। এখন আমার কোন ভয় নেই, আমার মেয়েদের আমি শিখিয়ে দিয়েছি। আমি না থাকলেও ওরাই সারা  দেশে জাগরণ সৃষ্টি করবে।আমার স্বপ্ন সত্যি করবে ওরাই। এভাবেই আগামী বানাব আমরা।

 

 

 

Blog at WordPress.com.

Up ↑